২২ জুন ২০২৬, ০৯:২৬

ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের দেখা পেল মিশর

মিশর ফুটবল দল   © সংগৃহীত

মিশরের ফুটবল ইতিহাসে লেখা হলো নতুন অধ্যায়। বহু অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের স্বাদ পেল তারা। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে নিউজিল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়ে দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে জয় তুলে নেয় মোহাম্মদ সালাহর দল।

এর আগে মিশর ১৯৩৪, ১৯৯০ এবং ২০১৮ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনোই জয় পায়নি। টুর্নামেন্টে টানা ৮ ম্যাচ খেলেও জয়হীন ছিল তারা। সেই হতাশার ইতিহাস অবশেষে বদলে দিল এই ম্যাচ।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না মিশরের জন্য। ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে দারুণ হেডে গোল করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ফিন সারম্যান। সেই গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় নিউজিল্যান্ড।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। মাত্র ২৪ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় মিশর।

৫৮ মিনিটে সমতা ফেরায় মিশর। ডান দিক থেকে মোহাম্মদ হানি বক্সে ক্রস পাঠান। সেখানে উঠে শক্তিশালী হেড করেন মোস্তাফা জিকো। বল মাটিতে বাউন্স খেয়ে জালে জড়িয়ে যায়।

এরপর ৬৭ মিনিটে এগিয়ে যায় মিশর। জিকোর অ্যাসিস্ট থেকে দুর্দান্ত বাঁ পায়ের শটে গোল করেন মোহাম্মদ সালাহ। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের রক্ষণ।

৮২ মিনিটে ম্যাচের জয় আরও নিশ্চিত করে মিশর। সালাহর কর্নার থেকে বল পেয়ে কাছ থেকে হেড করে জালে পাঠান বদলি ফরোয়ার্ড ত্রেজেগে। সেই গোলেই ৩–১ ব্যবধানে ইতিহাস গড়ে জয় নিশ্চিত করে আফ্রিকার দলটি।

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে মিশরের আক্রমণভাগের চাপ সামলাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। সালাহর নেতৃত্বে আক্রমণভাগে ধার বাড়িয়ে তারা ম্যাচে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ ‘জি’–তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল মিশর। প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করেছিল তারা। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ইরানের বিপক্ষে ২–২ গোলে ড্র করে আসে।

সব মিলিয়ে এই ম্যাচের ফল গ্রুপের সমীকরণও বদলে দিয়েছে। যারা জিতবে তারাই শীর্ষে ওঠার সুযোগ পাচ্ছিল, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ইতিহাস গড়ে প্রথম জয় তুলে নিল মিশর।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া এই জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং মিশরীয় ফুটবলের জন্য নতুন আত্মবিশ্বাসের সূচনা।