গোলের পর কেন কেঁদেছিলেন মেসি, সামনে এলো আসল কারণ
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শুধু তার গোল নয়, বরং প্রথম গোলের পর দেখা দেওয়া আবেগঘন একটি মুহূর্ত।
গোল করার পর মেসির চোখে জল দেখে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়া কিংবা দলকে জয় এনে দেওয়ার আনন্দেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন তিনি। কিন্তু পরে মেসি নিজেই জানিয়ে দেন, তার সেই কান্নার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে করা তিন গোলের সুবাদে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের পাশে উঠে এসেছেন মেসি। এখন দুজনেরই বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা ১৬। তবুও ম্যাচ শেষে নিজের আবেগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন তারকা।
সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর প্রতিবেদনে উঠে আসে, মেসি স্বীকার করেছেন যে প্রথম গোলের পর তিনি কেঁদেছিলেন। তবে সেই আবেগের উৎস ছিল ফুটবলের বাইরের একটি বিষয়।
মেসি বলেন, ‘হ্যাঁ, প্রথম গোলের পর আমি কেঁদেছিলাম। কিন্তু সেটার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমি কয়েকটা কঠিন দিনের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। তবে আমি পুরো দলের প্রতিনিধি দল এবং আমার সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ তারা সব সময় আমার পাশে ছিল এবং আমাকে অনেক শক্তি দিয়েছে।’
মেসির এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার আবেগের নেপথ্যের কারণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেসব প্রতিবেদনে উঠে আসে, তার বাবা হোর্হে মেসির শারীরিক অবস্থাই ছিল এই উদ্বেগের মূল কারণ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোর্হে মেসি বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক এদুয়ার্দো ফেইনম্যানও রেডিও মিত্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফেইনম্যান বলেন, ‘এটি তার বাবাকে ঘিরেই। তার বাবা ভালো স্বাস্থ্যের মধ্যে নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই, বলা যায় কয়েক মাস ধরে, গত বছর থেকেই তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। আর এই সপ্তাহে কিছু পরিস্থিতির কারণে তার শারীরিক অবস্থার সামান্য অবনতি হয়েছে। ফলে মেসিও ভেতরে ভেতরে একটি কঠিন মানসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে হোর্হে মেসি নিজ বাড়িতে একটি চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুবিষয়ক একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
তবে পুরো বিষয়টি জনসমক্ষে না আনার সিদ্ধান্ত নেয় মেসি পরিবার। ফলে তার অসুস্থতা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
হোর্হে মেসি শুধু একজন বাবা নন, লিওনেল মেসির ফুটবল জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও। ছোটবেলা থেকে ছেলের ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি মেসির প্রধান এজেন্ট ও ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এ কারণেই বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে খেলতে নামা এবং গোল করার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়াকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন অনেকেই।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করার আনন্দের পাশাপাশি বাবার অসুস্থতা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তাও যে মেসির মনকে ভারাক্রান্ত করে রেখেছিল, প্রথম গোলের পর তার চোখের জল যেন সেই কথাই বলে দিয়েছে।