গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহারে শীর্ষে চীন, দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র, টপ ১০-এ আছে যারা
বিশ্বজুড়ে গবেষণা প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহারের ঘটনাও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে চীন এবং দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র। শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় আরও রয়েছে ভারত, রাশিয়া, সৌদি আরব, ইরান, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও পাকিস্তান।
গবেষণা বিশ্লেষকদের মতে, ডেটা জালিয়াতি, পিয়ার রিভিউ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং প্লেজিয়ারিজমের মতো নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডই গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহারের প্রধান কারণ।
গবেষণা প্রকাশনা ও প্রত্যাহার-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার পরিচালনায় বর্তমানে যৌথভাবে কাজ করছে ক্রসরেফ এবং রিট্র্যাকশন ওয়াচ। ২০২৩ সালে ক্রসরেফ রিট্র্যাকশন ওয়াচের ডেটাবেজ অধিগ্রহণের পর এটি গবেষণা-সততা পর্যবেক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত বৈশ্বিক উৎসে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া ক্রসরেফের রিট্র্যাকশন মেটাডেটা গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহারের তথ্য যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বৈশ্বিক পরিসংখ্যান ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষক উত্তম গোলদার। তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশে রিট্র্যাকশন নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা প্রায়ই ভুলে যাই—তুলনাটা কিসের সঙ্গে করছি? বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গবেষণা প্রকাশ করা দেশগুলোই সাধারণত সবচেয়ে বেশি রিট্র্যাকশনের মুখোমুখিও হয়। কারণ তারা বিপুল সংখ্যক গবেষণা প্রকাশ করে। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী চীনের প্রকাশনা ৩৪,৩৬৮, যুক্তরাষ্ট্রের ৫,৬৮৭, ভারতের ৫,৪৯৫। এত বিশাল গবেষণা উৎপাদনের সঙ্গে কিছু রিট্র্যাকশন থাকাটাও পরিসংখ্যানগতভাবে স্বাভাবিক।’
পোস্টপাব এবং ফিগশেয়ারে সংরক্ষিত ২০২৫ সালের ডেটাসেট অনুযায়ী, ওই বছর বিশ্বজুড়ে মোট ৭৫ হাজার ৮৯৪টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে চীনে সবচেয়ে বেশি ৩৪ হাজার ৩৬৮টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহার করা হয়। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে প্রত্যাহার করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৮৭টি প্রবন্ধ। এরপর রয়েছে ভারত (৫ হাজার ৪৯৫), রাশিয়া (৩ হাজার ৭৪), সৌদি আরব (১ হাজার ৯১০), ইরান (১ হাজার ৮২০), যুক্তরাজ্য (১ হাজার ৬১০), জাপান (১ হাজার ৫৪০), দক্ষিণ কোরিয়া (১ হাজার ৩৩৪) এবং পাকিস্তান (১ হাজার ৩১১)। বিশ্লেষকদের মতে, যেসব দেশে গবেষণার পরিমাণ বেশি, সেসব দেশেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের কারণে প্রত্যাহার হওয়া প্রবন্ধের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
বাংলাদেশের গবেষণা পরিবেশ ও সামাজিক মনোভাব নিয়ে উত্তম গোলদার আরও লেখেন, ‘অন্যদিকে, বাংলাদেশের গবেষণা উৎপাদন এখনও এসব দেশের তুলনায় অনেক কম। তবে, হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের গবেষণায় আরো নীতি নৈতিকতা অনুসরণ করতে হবে।। এ দেশের মানুষের সমালোচনা করবার কিছু পেলেই হয়। মুখ দিয়ে ফেনা তুলে ফেলবে। রিকশাওলাও বলবে এই দেশ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেল। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো একটু বৃষ্টির দিনেই ২০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা চাওয়াটা তাদের কাছে খুবই সুনীতি মনে হয়। দোষ শুধু আমরা অন্যের ভিতরেই দেখতে পছন্দ করি। নিজের ভিতরে দোষ খোঁজার অভ্যাস আমাদের নেই।’
সূত্র:
https://doi.org/10.13003/c23rw1d9
https://www.crossref.org/blog/news-crossref-and-retraction-watch/
https://www.postpub.net/
https://doi.org/10.6084/m9.figshare.c.7252732.v2