১২ জুলাই ২০২৬, ২০:০০

জটিলতা ছাড়াই টিউটর ও টিউশন খুঁজতে এলো নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্‌ম ‘টিউশন ফাইন্ডার’

জটিলতা ছাড়াই টিউটর ও টিউশন খুঁজতে এলো নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্‌ম ‘টিউশন ফাইন্ডার’  © টিডিসি সম্পাদিত

দীর্ঘদিন ধরেই দেশে গৃহশিক্ষক (হোম টিউটর) খুঁজতে অভিভাবকদের ভরসা করতে হয় বিভিন্ন টিউশন মিডিয়া কিংবা ফেসবুক পোস্টের ওপর। একইভাবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের টিউশন খুঁজতে দ্বারস্থ হতে হয় এসব মাধ্যমের ওপর। যেখানে চড়া কমিশন, ভেরিফিকেশন ফি কিংবা নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এই প্রক্রিয়াকরণকে আরও সহজ, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে দেশে চালু হয়েছে ‘টিউশন ফাইন্ডার’ (Tuition Finder) নামের একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্‌ম। কোনো মধ্যস্থতাকারী বা মিডিয়া ছাড়াই শিক্ষক ও অভিভাবকদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিচ্ছে এই অ্যাপ ও ওয়েবসাইট।

জটিলতা ছাড়াই যেভাবে কাজ করবে এই প্ল্যাটফর্‌ম
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই প্ল্যাটফর্মের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানের জন্য সুবিধাজনক গৃহশিক্ষক খুঁজে নিতে পারবেন। অ্যাপে থাকা ফিল্টারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিষয়, কারিকুলাম (বাংলা বা ইংরেজি মাধ্যম), লোকেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজেট অনুযায়ী শিক্ষক খোঁজার সুযোগ রয়েছে। পছন্দের টিউটরের প্রোফাইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা দেখে অভিভাবকেরা সরাসরি অ্যাপের ভেতরেই মেসেজ পাঠিয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন।

অন্যদিকে, টিউশন প্রত্যাশীরাও এই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করতে পারবেন। এর ফলে কোনো থার্ড-পার্টি মিডিয়াকে অগ্রিম বা আয়ের বড় অংশ কমিশন হিসেবে না দিয়ে, সরাসরি অভিভাবকদের কাছ থেকে টিউশনের প্রস্তাব পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের এই সুযোগ মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভরতা ও আর্থিক হয়রানি অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অল্প দিনেই সাড়া
অ্যাপটির উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ‘টিউশন ফাইন্ডার’ অ্যাপটি ইতোমধ্যে অ্যান্ড্রয়েড (Android)আইওএস (iOS)—উভয় প্ল্যাটফর্মেই উন্মুক্ত করা হয়েছে। অবমুক্তকরণের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাঝেই অ্যাপটি ১০ হাজারেরও বেশি ডাউনলোড হয়েছে। ইতোমধ্যে এর মাধ্যমে শত শত টিউটর ও অভিভাবক সফলভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, সনাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ টিউশন মিডিয়ার বাইরে এসে এমন প্রাতিষ্ঠানিক ডিজিটাল উদ্যোগ শিক্ষক ও অভিভাবক—উভয় পক্ষের জন্যই সময় ও অর্থের সাশ্রয় করবে।