০১ নভেম্বর ২০২৬, ২২:৫১

ছেলেকে এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপি নেতার কাণ্ড! 

বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দীন  © টিডিসি সম্পাদিত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে শিক্ষাবোর্ডের মনোনয়ন পাওয়া আমিনুল ইসলামকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে। আজ রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন আমিনুল ইসলাম।

আমিনুল ইসলামের দাবি, আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি পদে সেলিম উদ্দীনের ছেলে মোস্তফা মাসুম রিয়াজ প্রার্থী ছিলেন। বোর্ড তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় সেলিম উদ্দীন ক্ষুব্ধ হন। তার অভিযোগ, এ কারণেই তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম উদ্দীন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এ ঘটনায় আমি জড়িত না। আমি কেন করতে যাব, প্রশ্ন বিএনপির এই নেতার। 

তবে হেড মাস্টারসহ স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকরা সভাপতিকে নিয়ে এসে পদত্যাগ করিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলামের ভাষ্য, আজ বিকেল চারটার দিকে তিনি জানতে পারেন, বোর্ড তাকে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেছেন। এ খবর জানার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুজ্জামান মিন্টু, জগৎমণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিক মামুন এবং আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিক তার বাসায় যান। পরে তারা তাকে সেলিম উদ্দীনের কার্যালয়ে যেতে বলেন।

আমিনুল ইসলামের অভিযোগ, সেলিম উদ্দীনের কার্যালয়ে যাওয়ার পর তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত শিক্ষকেরাও তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে হুমকি ও চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

আমিনুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, দেওটুকুন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন চন্দ্র সরকার তার পদত্যাগপত্র লিখে দেন। তবে নিউটন চন্দ্র সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঘটনাটি আমার বাড়ির পাশেই ঘটেছে। একসঙ্গে এত লোক থাকায় আমি সেখানে গিয়েছি। প্রথমে সবকিছু ঠিক থাকলেও পরে অবস্থা দেখে আমি বুঝেছি ঘটনাটি স্বাভাবিক না।

তিনি আরও বলেন, সেখান থেকে পদত্যাগটি একজনে লিখে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিক বাজার থেকে প্রিন্ট করে আনেন। ঘটনার সময়ে থাকা সবাই তার পরিচিত বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম রাত ১০টার দিকে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এ ঘটনার পর আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর জন্য এখন পূর্বধলা থানায় এসেছি।