২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬

বরিশালে ঝুঁকিপূর্ণ ৩২০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন, নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষার্থীরা

জরাজীর্ণ ভবন  © টিডিসি ফটো

বরিশাল জেলায় ৩২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জরাজীর্ণ এসব ভবনের কোথাও দেয়ালে ফাটল, কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোনো কোনো ভবনের ছাদ থেকে বেরিয়ে এসেছে রড। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তালিকা পাঠানো হলেও এখনো অনেক বিদ্যালয়ে কাজ শুরু হয়নি।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সমস্যা থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। কোথাও শ্রেণিকক্ষে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে, আবার কোথাও ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে পাঠদানের পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।

বছরের পর বছর সংস্কারহীন বিদ্যালয় ভবন

বাবুগঞ্জ উপজেলার ছানিকেদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের পর থেকে ভবনটির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে।

বরিশাল সদর উপজেলার ৭৮ নম্বর আদর্শ মাতৃমন্দির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মিত হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মিন্টু কুমার কর জানান, প্রায় পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার করা হয়নি।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, দুশ্চিন্তায় অভিভাবকেরা

বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, পাঠদান চলাকালে ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে, কিছু বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্রের সংকটও রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ার কারণে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

মন্ত্রণালয়ে তালিকা, দ্রুত কাজ শুরুর আশা

বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা তৈরি করে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে।

বরিশাল জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব বিদ্যালয়ের সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলোতে পাঠদানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সম্ভাব্য দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।