১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩৩

প্রধান শিক্ষকের মোটরসাইকেল ছিনতাই করলেন সাবেক শিক্ষক

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক  © সংগৃহীত

ভোলার চরফ্যাশনে নুরাবাদ ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা, নগদ অর্থ ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধের জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে নুরাবাদ সড়ক এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে প্রধান শিক্ষকের নাক ও মাথা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষক মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন ও তার সহযোগী সিফাতসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় দুলারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকতার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও বিধিসম্মত শর্ত পূরণ করতে না পারায় মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে পূর্বে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর সকালে অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী ও তার সহযোগীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। ফলে ওই দিন পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এ ঘটনায় গত ৫ অক্টোবর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যালয়ের কাজ শেষে চাচাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান। পথিমধ্যে নুরাবাদ বাজার সড়কে পৌঁছালে নাজিমুদ্দিন ও তার সহযোগীরা তাদের পথরোধ করে। মোটরসাইকেল থামানোর সঙ্গে সঙ্গে লোহার রড ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিজানুর রহমানের মাথা ও মুখমণ্ডল লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা ও নাক ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এ সময় হামলাকারীরা প্রধান শিক্ষকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য সঙ্গে থাকা নগদ টাকা এবং জরুরি দাপ্তরিক কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াসিন আলম চৌধুরী বলেন, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।