শিক্ষার্থীদের চাঁদায় শিক্ষক দিবস, পার্টি স্প্রেতে ছাত্রীর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত
শিক্ষক দিবস পালন উপলক্ষে বিদ্যালয়ের পাঁচ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়। সেই টাকায় কেনা হয় পাঁচটি কেক ও পার্টি স্প্রে। পরে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় চলাকালে শ্রেণিকক্ষে কেক কাটার আয়োজন করেন এক সহকারী শিক্ষক। এ সময় পার্টি স্প্রে ছিটানোর সময় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের বাম চোখে স্প্রে ঢুকে চোখটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা। নোটিশে সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর যশোরের ইত্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাম্মী আক্তার বলেন, ‘শিক্ষক দিবস পালন উপলক্ষে ৫ অক্টোবর বিদ্যালয়ে আমাদের কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল না। অতি গোপনে কেক কেটে অনুষ্ঠান উদযাপন করতে শিক্ষক সাইফুল ইসলাম প্রথম শ্রেণি থেকে ৫৭৫ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে ৬০০ টাকা, তৃতীয় শ্রেণি থেকে ৬০০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণি থেকে ৬০০ টাকা ও পঞ্চম শ্রেণি থেকে ৮০০ টাকা চাঁদা তোলেন। নির্ধারিত দিনে তিনি প্রতি ক্লাসের জন্য একটি করে মোট পাঁচটি কেক আনেন। এরপর আমাদের কাউকে না জানিয়ে স্কুল সময়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পৃথক কেক কাটেন। ওই সময় পার্টি স্প্রে ছেটানো হয়। সেই স্প্রে আমাদের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের চোখে ঢুকে।’
তবে শিক্ষক সাইফুল ইসলামের দাবি, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে টাকা তুলে তার কাছে দিয়েছিল। তিনি টিফিনের সময়ে তাদের নিয়ে কেক কেটে শিক্ষক দিবস পালন করেন।
তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে টাকা তুলে আমার কাছে দিয়েছিল। আমি পাঁচটি কেক এনে টিফিন সময়ে ওদের নিয়ে কেক কেটে শিক্ষক দিবস পালন করেছি।’
পার্টি স্প্রে শিক্ষার্থীদের কেউ কিনে এনেছিল বলে দাবি করেন সাইফুল ইসলাম। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা স্প্রে ছিটানোর সময় তা নুসরাতের চোখে ঢুকে যায়।
প্রধান শিক্ষকের অনুমতি না নিয়ে আয়োজন করার বিষয়টি ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের অনুমতি না নিয়ে কাজটি করা আমার ভুল ছিল। এর জন্য হয়তো আমাকে শাস্তি পেতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের বাবা ইত্যা গ্রামের হযরত আলী বলেন, ‘মেয়ের চোখের চিকিৎসা চলছে। চোখের অবস্থা এখন ভালোর দিকে। বিষয়টি নিয়তি বলে মেনে নিয়েছি।’
সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নূর-এ-এলাহী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর বাবা ফোনে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে তলব করেছি। তিনি দোষ স্বীকার করেছেন। এরপর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, জবাব সন্তোষজনক হওয়ার সুযোগ নেই। জবাব পাওয়ার পর ওই শিক্ষকের শাস্তির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হবে।