১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৩

শিক্ষার্থীদের চাঁদায় শিক্ষক দিবস উদ্‌যাপন, চোখে স্প্রে ঢুকে গুরুতর অসুস্থ শিশু

ইত্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়  © সংগৃহীত

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলে কেক ও পার্টি স্প্রে ক্রয় করে শ্রেণিকক্ষে কেক কেটে শিক্ষক দিবস উদ্‌যাপন করেন এক সহকারী শিক্ষক। এ সময় চোখে স্প্রে ঢুকে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও)।

গত ৫ অক্টোবর ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ইত্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর নাম নুসরাত জাহান। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম এ আয়োজন করেন বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাম্মী আক্তার বলেন, ‘শিক্ষক দিবস পালন উপলক্ষে ৫ অক্টোবর বিদ্যালয়ে আমাদের কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল না। অতি গোপনে কেক কেটে অনুষ্ঠান উদযাপন করতে শিক্ষক সাইফুল ইসলাম প্রথম শ্রেণি থেকে ৫৭৫ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে ৬০০ টাকা, তৃতীয় শ্রেণি থেকে ৬০০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণি থেকে ৬০০ টাকা ও পঞ্চম শ্রেণি থেকে ৮০০ টাকা চাঁদা তোলেন। নির্ধারিত দিনে তিনি প্রতি ক্লাসের জন্য একটি করে মোট পাঁচটি কেক আনেন। এরপর আমাদের কাউকে না জানিয়ে স্কুল সময়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পৃথক কেক কাটেন। ওই সময় পার্টি স্প্রে ছিটানো হয়। সেই স্প্রে ঢোকে আমাদের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের চোখে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাড়ি ফেরার পর ওই ছাত্রীর চোখে যন্ত্রণা শুরু হয়। পরের দিন অভিভাবক এসে বিষয়টি জানায়। এরপর চিকিৎসা শুরু হয় মেয়েটির। ধীরে ধীরে ওর চোখের ও ত্বকের অবস্থা খারাপের দিকে যায়। পরে বাধ্য হয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার অফিসারকে জানাই। তিনি ঘটনা জানতে পেরে তদন্ত করে শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে শোকজ নোটিস দিয়েছেন।’

তবে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগেই শিক্ষক দিবস পালনের আয়োজন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে টাকা তুলে আমার কাছে দিয়েছিল। আমি পাঁচটি কেক এনে টিফিন সময়ে ওদের নিয়ে কেক কেটে শিক্ষক দিবস পালন করেছি।’

পার্টি স্প্রে শিশুরা নিজেরাই কিনে এনেছিল বলে দাবি করেন তিনি। সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, শিশুরা স্প্রে করার সময় তা নুসরাতের চোখে ঢুকে যায় এবং তার চোখ আক্রান্ত হয়। প্রধান শিক্ষকের অনুমতি না নিয়ে কাজটি করা আমার ভুল ছিল। এর জন্য হয়তো আমাকে শাস্তি পেতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানের বাবা ও ইত্যা গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, ‘মেয়ের চোখের চিকিৎসা চলছে। চোখের অবস্থা এখন ভালোর দিকে। বিষয়টি নিয়তি বলে মেনে নিয়েছি।’

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নূর-এ-এলাহী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর বাবা ফোনে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে তলব করেছি। তিনি দোষ স্বীকার করেছেন। এরপর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। সাত কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।’

নূর-এ-এলাহী বলেন, ‘জবাব সন্তোষজনক হওয়ার সুযোগ নেই। জবাব পেলে ওই শিক্ষকের শাস্তির জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লিখিত আকারে জানানো হবে।’