দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকায় ভালো বাংলা বলতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী—ক্লাসরুমে মন্তব্য করে বাংলার শিক্ষক আটক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকায় তার বাংলা চর্চা আগের মতো নেই, তাই তিনি জাতিসংঘেও ভালোভাবে কথা বলতে পারেননি—শ্রেণিকক্ষে এমন মন্তব্য করায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক স্কুলশিক্ষককে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে স্কুল থেকে বের হওয়ার পর ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এলাকা থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।
আটক গোলাম কিবরিয়া লালন প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লালনের পরিবার ‘কট্টর’ বিএনপিপন্থী হলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি জামায়াতঘেঁষা হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত হয়েছেন। দৌলতপুর থানা ও প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় সূত্রে তার আটকের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বাংলার ক্লাস নেওয়ার সময় এমন মন্তব্য করেন গোলাম কিবরিয়া লালন। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকালে ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৈঠকে বসে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি। বৈঠক চলাকালেই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশ বিদ্যালয়টি ঘেরাও করে। এ সময় ভালো মানুষের মতো তুলে না দিলে টানা-হেঁচড়া করে নিয়ে যাওয়া হবে—এমন হুমকিও দেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরে লালন স্কুল থেকে বের হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়।
দৌলতপুর থানার ডিউটি অফিসার এসআই লিংকন সরকার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রাগপুর স্কুলের আটককৃত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে এসপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় অবস্থান করছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।
প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গোলাম কিবরিয়া লালন মঙ্গলবার দশম শ্রেণীর বাংলা ক্লাস নেওয়ার সময় বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সময় লন্ডনে থাকার কারণে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছেন না এবং তার মধ্যে বাংলা চর্চাটা আর নেই; এমনকি জাতিসংঘে ভাষণ দিতে গিয়েও সেভাবে বাংলায় কথা বলতে পারেননি।
প্রধান শিক্ষক বলেন, ক্লাসের কোনো শিক্ষার্থী বিষয়টি তার অভিভাবককে জানালে তা স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের কান পর্যন্ত পৌঁছায়। পরবর্তীতে তারা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের (কুষ্টিয়া-১ আসনের এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা) সাথে কথা বলেন এবং এমপি সাহেব তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানান।
তিনি বলেন, আজ সকালে সাবেক সভাপতিসহ আমরা ১০টার দিকে শিক্ষকদের নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। আলোচনা চলাকালেই পুলিশ এবং বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী আমাদের অফিসে আসেন। সভাপতি মহোদয় ও দারোগার সাথে কথা হওয়ার পর সভাপতি জানান যে, স্কুল বাউন্ডারি থেকে ওনাকে নেওয়া যাবে না। তখন পুলিশ কর্মকর্তা জানান যে তারা নিয়ম মেনে বাইরে অপেক্ষা করবেন এবং উনি বের হলে নিয়ে যাবেন। তবে সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, ভালো মানুষের মতো উনাকে বের করে না দিলে তাঁরা টানা-হেঁচড়া করে নিয়ে যাবেন। পরিবেশ পরিস্থিতি থমথমে দেখে আমরা ওই শিক্ষককে বলি যে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উনি যেন স্কুল থেকে বের হয়ে যান, যাতে পুলিশ বাইরে থেকে উনাকে নিতে পারে। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার দিকে পুলিশ উনাকে নিয়ে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে কী পাওয়া গেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, উনি (লালন) আসলে কোন উদ্দেশ্যে বা কোন সেন্সে এই কথা বলেছেন, তা শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি কথা না বলে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তবে উনি স্বীকার করেছেন যে উনি ক্লাসে এই কথাটুকু বলেছেন। উনি যেহেতু বাংলা ভাষার শিক্ষক, তাই উদাহরণ হিসেবে বলে থাকতে পারেন, তবে উদাহরণ দিয়ে থাকলে অন্য কোনো প্রসঙ্গও টানতে পারতেন।