১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৭

পুকুরে ধসে যাচ্ছে বিদ্যালয় ভবন, খোলা মাঠে চলছে পাঠদান 

বাহিরে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস কিরছেন শিক্ষার্থীরা।  © টিডিসি ছবি

পাশে জলাশয়, দাড়িয়ে  আছে একটি স্থাপনা। দেয়ালে ঠেকা দিয়ে রাখা আছে বাঁশ দিয়ে। আবার ভাঙা ঘর। বাহিরে খোলা আকাশের নিচে বই-খাতা-কলম নিয়ে বসে আছে কিছু শিক্ষার্থী। এ দৃশ্য নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের। সেখানে শ্রেণিকক্ষের ঘর পানিতে বিলীন হচ্ছে, ঘর না থাকার কারণে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করাতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

সংশ্লিষ্টদের যথাযথ সময়ে পদক্ষেপ না নেওয়ায় পুকুরের পানিতে বিলীন হতে চলেছে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ। কাজেই একদিকে শ্রেনিকক্ষ হারানো ভয়, অন্যদিকে নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে সেখানে শ্রেণিকক্ষ সংকটে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান।

জানা যায়, সন্ন্যাসতলা নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণীকক্ষ ধীরে ধীরে ধসে পড়ছে পাশে থাকা পুকুরের পানিতে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কোনমতে বাঁশ দ্বারা ঠেকা দিয়ে রাখা হয়েছে এবং দেয়ালের কিছুটা অংশ অনেক আগেই ধসে পড়েছে পাশে থাকা পুকুরের পানিতে। তাই জীবনের ঝুঁকি এড়াতে ও পাঠদান চালু রাখতে বাধ্য  হয়ে বিদ্যালয়ের মাঠেই খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। 

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয় ভবনের একটি ক্লাসরুমের কিছু অংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে বাঁশ দ্বারা ঠেকা দেওয়া ও বিভিন্নভাবে ঘরটি আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। যেকোনো সময় পুরো কাঠামো ধসে পড়ে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। জরাজীর্ণ এই অবস্থার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন। 

বিদ্যালয়টিতে অধ্যায়নরত একাধিক শিক্ষার্থী জানান, জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে বসে ক্লাস করতে আমাদের খুব ভয় করে। বাহিরে মাঠে ক্লাস করতে গিয়ে রোদ-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা পড়ালেখার পরিবেশ বিনষ্ট করছে। অতি দ্রুত এই ভাঙা শ্রেণীকক্ষ মেরামত অথবা একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কতৃপক্ষের কাছে আমাদের আবেদন যেন দ্রুত আমাদের স্কুলটির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যাতে আমাদের আর স্কুলের মাঠে ক্লাস না করতে হয়।

তারা আরও জানান, স্কুল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অদ্যবদি সরকারি কোনো অনুদানের বিল্ডিং পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সেই সময়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য টিন দিয়ে আধাপাকা  বিল্ডিং করেছিল সেটাই এখনও আছে। আর বর্তমানে ভেঙে যাওয়ায় স্কুলের ক্লাস নেওয়া অনেক অসুবিধা হচ্ছে। এখন স্কুলের ক্লাস ফাঁকা মাঠে নিতে হয়। রুম সংকটের কারণে মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস যখন ভাগ হয়ে যায় তখন আমাদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তাছাড়াও আমাদের বিদ্যালয়টি একটি বালিকা বিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের চারিদিকে কোনো বাউন্ডারি না থাকায় যখন তখন যত্রতত্র যে কেউ স্কুলে প্রবেশ করতে পারে। এতে স্কুলে অধ্যায়নরত মেয়েদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, পুরাতন জরাজীর্ণ ক্লাসরুমগুলো সেই স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় ম্যানেজিং কমিটির করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে তা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমাদের যে পরিমাণ ক্লাসরুম দরকার, সেই পরিমাণ ক্লাসরুম এখন পর্যন্ত নেই। এই কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাসরুম গুলোতেই আমাদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, খুব শীঘ্রই যদি রুমগুলো সংস্কারসহ পাঠদান কার্যক্রম চালানোর মতো একটি ভবন নির্মাণ করে দেন, তাহলে আমরা এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি বলেন, আমি এই বিষয়ে অবগত আছি, সেই সময় সংস্কার কাজ হয়েছিল। তবে বৃষ্টির কারণে মাটি দিয়ে ভরাট করা যায়নি। আমরা অতি দ্রুত কাজ করার জন্য কথা বলেছি। উপজেলা প্রকৌশলী মহোদয় ছুটিতে আছেন, উনি ফিরে আসলেই ঠিক করে দিবেন।