১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১

আখরোট খেয়ে ৭ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি 

হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা  © টিডিসি ফটো

বরগুনার আমতলীতে আখরোট খেয়ে সপ্তম শ্রেণির সাত ছাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের বমি, শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমতলী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোচিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোলাইমান হোসেন জানান, কোচিং শুরু হওয়ার পর প্রথমে তিনজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে মোট সাত ছাত্রীকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অভিভাবক ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দিনের বেলায় বিদ্যালয়ের ক্লাস এবং রাতে কোচিং চলে। বুধবার রাতে সপ্তম শ্রেণির কোচিং চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। আখরোট খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কয়েকজন বমি করতে শুরু করে এবং কারও কারও খিঁচুনি দেখা দেয়।

পরে কোচিংয়ে থাকা অভিভাবক ও সহপাঠীরা দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তারা সবাই সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে বারবার বমি করতে দেখা যায়। এ ছাড়া কয়েকজনের শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনির উপসর্গও ছিল। পরে চিকিৎসকরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্যালাইন দেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসান নান্নু বলেন, ‘কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা এখনো বুঝতে পারছি না। তবে এক শিক্ষার্থী আখরোট খেতে দিয়েছিল বলে শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

আরও দেখুন: স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, নারীসহ হানিট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

অসুস্থ এক শিক্ষার্থীর বাবা আবুল হোসেন বলেন, ‘মেয়েকে স্কুলে পড়তে দিয়েছি। সেখানে এমন ঘটনা ঘটবে, তা আশা করিনি। ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

অসুস্থ আরেক শিক্ষার্থীর বাবা রিয়াজ পেদা উদ্দিন বলেন, ‘স্কুলে এমন ঘটনা ঘটবে, তা আশা করিনি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।’

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শুভেন্দু রায় শুভ বলেন, ‘অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে, তা প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।’