৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০৫

স্কুল থেকে বেঞ্চ গেল গোয়ালঘরে, জানেন না প্রধান শিক্ষক!

খিচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়  © টিডিসি ফটো

শেরপুরের নকলা উপজেলার খিচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের তিনটি লোহার বেঞ্চ পাশের একটি বাড়ির গোয়ালঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের বেঞ্চ কীভাবে স্কুলের বাইরে গিয়ে গোয়ালঘরে পৌঁছাল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পাশের আবু মিয়ার বাড়ির গোয়ালঘরে লাকড়ির নিচে তিনটি লোহার বেঞ্চ রাখা রয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বেঞ্চগুলো উদ্ধার করে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পুরোনো বেঞ্চ বিক্রি করে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে বেঞ্চগুলো কীভাবে বিদ্যালয়ের বাইরে গিয়ে পাশের বাড়ির গোয়ালঘরে পৌঁছাল, কে সেগুলো সেখানে রাখল এবং কোনো অনুমতি নিয়ে সেগুলো সরানো হয়েছিল কি না তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হবে।

ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় নাহিদুল ইসলাম রিজন জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরার কাছে স্কুলের কোনো আসবাবপত্র বাইরে আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের কোনো আসবাবপত্র বাইরে নেই। পরে প্রধান শিক্ষকসহ স্থানীয়দের নিয়ে পাশের বাড়ির গোয়ালঘরে গিয়ে লাকড়ির নিচ থেকে তিনটি লোহার বেঞ্চ উদ্ধার করা হয়।

রিজনের বলেন, বেঞ্চগুলো লোহার হওয়ায় এর আর্থিক মূল্য রয়েছে। বিদ্যালয়ের বেঞ্চ কীভাবে স্কুলের বাইরে গেল এবং এগুলো বিক্রি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

তবে আবু মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরা তাদের বেঞ্চগুলো দিয়েছেন এবং বিষয়টি তাকে জানিয়েই বেঞ্চগুলো বাড়িতে নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরা বলেন, আমি জানতাম না সেগুলো আমাদের স্কুলের বেঞ্চ। আমি কাউকে দেইনি এবং নেওয়ার অনুমতিও দেইনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।

এ বিষয়ে নকলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. গোলাম রব্বানী বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।