১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৫৪

কেন্দুয়ায় প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের ১১০ পদ শূন্য, পাঠদান ব্যাহত

কেন্দুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়  © টিডিসি

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ১৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১১০টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ৬০টি সহকারী শিক্ষক পদসহ মোট ১৭০টি পদ শূন্য। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক ১১০ জনের মধ্যে ৩৯ জন চলতি দায়িত্ব এবং ৭১ জন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক না থাকায় অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চলছে শ্রেণি কার্যক্রম। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিপাকে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ৬০টি সহকারী শিক্ষক পদও শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসে ১৩টি পদের মধ্যে ৭টি পদই খালি। এর মধ্যে ৭ জনের মধ্যে ৫ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, অফিস সহকারী  ৩ জনের মধ্যে  ১ জন ও একমাত্র অফিস সহায়ক ১ জনই শূন্য থাকায় কোনোভাবে চলছে কেন্দুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিস। সহকারী শিক্ষা অফিসারের সংকট থাকায় ৭টি ক্লাস্টারের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অফিসসহ এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম।

এসব বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও চলতি দায়িত্বে থেকে দুই দায়িত্বই পালন করেছেন। এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত চার-পাঁচটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকার কারণে সহকারী শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে পুরো সময় উপস্থিত থাকেন না। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলিও সৃষ্টি হচ্ছে।

উপজেলার দুল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) সজল কুমার সরকার বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে  ১৬১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে আমি প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) হিসাবে পালন করছি। বিদ্যালয় এবং অফিসের কাজ দুটোই করতে হচ্ছে ফলে বেশি চাপে থাকতে হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: অবসর সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পাঠদানে পিছিয়ে পড়েছে। শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে হলে শিগগিরই এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ দ্রুত  পূরণ করা দরকার।

উপজেলা সান্দিকোনা ইউনিয়নে টিপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মুর্শেদ আলম বলেন, ‘প্রায় ১ বছর  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। এ অবস্থায় আমাকে ক্লাস রেখে অফিসের কার্যক্রমে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছিল। এখন আমি ভারমুক্ত হয়েছি।’

কেন্দুয়া প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বাট্টা  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এখলাস উদ্দিন ভুইয়া জানান, উপজেলার ১৮২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টি প্রধান শিক্ষক এবং ৬০টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য, শিক্ষা অফিস ও সহকারী শিক্ষা অফিসারসহ মোট ৭টি পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ে পাঠদানসহ অফিসের কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব এসব পদপূরণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

জানতে চাইলে কেন্দুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদকে দ্বিতীয় শ্রেণি ঘোষণা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। ১০ বছর ধরে শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি আটকে আছে। সহকারী শিক্ষক থেকেই শূন্য পদের প্রধান শিক্ষকের পদগুলো পূরণ হবে। মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের মধ্যে কারা ওই পদোন্নতি দেবে, তা নিয়েও রয়েছে ঝামেলা। ওই কারণে শূন্য পদগুলো পূরণ করা যাচ্ছে না। এতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কেন্দুয়া উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কাসেম জানান, উপজেলার ১৮২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। ৬০টি সহকারী শিক্ষক, অফিসে ১৩টি পদের মধ্যে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ ৭টি পদই শূন্য। যার ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে আজ ২১০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, ‘শূন্য পদগুলো পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। এটির একটি প্রক্রিয়া চলছে। নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না, তবে শূন্য পদগুলো তাড়াতাড়ি পূরণ হবে বলে আশা করছি। তা ছাড়া অফিশিয়াল পদগুলো শিগগিরেই পূরণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।’

শিক্ষক সংকট থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে কি না, এ রকম প্রশ্ন করা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আ ব মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, উপজেলায়  ৫ জন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার, ১১০ জন প্রধান শিক্ষক ও  ৬০ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় পড়াশোনা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। কিন্তু ইতোমধ্যে শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আইনি জটিলতা থাকায় এত দিন ওই পদগুলো পূরণ করা যায়নি। এখন আর ওই আইনি জটিলতা নেই। শিগগিরই ওই শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সানজিদা চৌধুরী  বলেছেন, ‘আমি নতুন এসেছি। এসব বিষয়গুলো আমি অবগত আছি। যতটুকু জানলাম, উপজেলায় ১১০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তা ছাড়া ৬০টি সহকারী শিক্ষক ও অফিসেও ৭টি পদ খালি আছে। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার গুণগত মান ক্ষুণ্ন হবে। দ্রুত শূন্য স্থানে শিক্ষক নিয়োগ করলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রমকে বেগমান করা হবে।’