১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১

কোচিং ফি দিতে না পারায় ২১ শিক্ষার্থীকে এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখলেন প্রধান শিক্ষক

আল বালাগ আদর্শ একাডেমি স্কুল  © সংগৃহীত

কোচিংয়ের বকেয়া ফি পরিশোধ না করায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে এক ঘণ্টা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন ছাত্র ও ৬ জন ছাত্রী। গত সোমবার (১০ আগস্ট) সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার পিএম একাডেমি এলাকাস্থ আল বালাগ আদর্শ একাডেমি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী এ ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, গত সোমবার ৮২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫ জন ছাত্র ও ৬ জন ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমাদ তার কক্ষে ডেকে পাঠান। তাদের কাছে কোচিংয়ের বকেয়া ফি দাবি করা হয়। বিদ্যালয়ে কোচিং ফি হিসাবে শিক্ষার্থীপ্রতি এক হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানায়।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তারা নিজেদের পরিবারের আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য সময় চান। কেউ পরে বকেয়া টাকা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতিও দেয়। কিন্তু এরপরও তাদের কয়েকজনকে প্রায় এক ঘণ্টা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অস্বস্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে বকেয়া টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এরপরও আমার মেয়েকে কক্ষে নিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। গত দুই দিন ধরে ঠিকমতো খাচ্ছে না, স্বাভাবিক আচরণও করছে না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে কোচিং কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তবে এবার বকেয়া কোচিং ফি আদায়ে শিক্ষার্থীদের এভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। 

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমাদ গণমাধ্যমে বলেন, এটি একটি বেসরকারি স্কুল। আমরা স্কুলের মালিকদের পরামর্শে তাদের আমার কক্ষে আসতে বলি কোচিং ফি আদায় করার জন্য। কোচিং নিষিদ্ধের কথা স্বীকার করে তিনি উলটো প্রশ্ন করেন সিদ্ধিরগঞ্জের কোন স্কুলে কোচিং হয় না?

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের কোচিং ফি দিতে না পারায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগটি আমি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের মানসিক চাপ বা অপমানের মুখে ফেলা হয়ে থাকলে তা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কীভাবে ফি নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা বিধিমালা কী রয়েছে, সেটিও যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।