ভিকারুননিসা ইংরেজি শিক্ষক আলী আনোয়ার বাঁচতে চান
দুই কিডনি অকার্যকর হওয়ায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আজিমপুর শাখার ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. আলী আনোয়ার।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মো. আলী আনোয়ার। চিকিৎসা নিতে গিয়ে জানতে পারেন তার দুই কিডনিই অকার্যকর হয়ে গেছে। এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে। বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাকে।
দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিলেও চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতোন সামর্থ নেই বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে নিজ সন্তানের চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন আলী আনোয়ার।
আলী আনোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জীবনের শুরু থেকেই আমি সংগ্রাম করে আসছি। সন্তানের চিকিৎসার জন্য নিজের সাধ্যের সবটুকু ব্যয় করছি। এখন নিজের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা আমার একার পক্ষে আর সম্ভব নয়। সমাজের সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান মানুষ পাশে দাঁড়ালে আমি আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারি।
তার পরিবারের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা গ্রহণের জন্য ব্যাংক হিসাব ও বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক হিসাব: ০০১২১০০০৩৬৮৫০; হিসাবের নাম: উম্মে কুলসুম কান্তা (স্ত্রী); ব্যাংক: সাউথ ইস্ট ব্যাংক পিএলসি, ধানমন্ডি শাখা; বিকাশ: ০১৭১৫৮৬৫১৬১।
জানা গেছে, আলী আনোয়ার নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মাঝগ্রাম ইউনিয়নের আগরান গ্রামের মৃত মসলেম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে। তার বয়স যখন দুই বছর, তখন তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর চার বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে বাবার বাড়ি ছেড়ে নানাবাড়ি গুরুদাসপুর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামে নানাবাড়িতে আশ্রয় নেন।
নানা বাড়ির আর্থিক অস্বচ্ছলতা থাকায় আলী আনোয়ারের পড়াশুনার খরচ চালাতে অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন তার মা। কৈশোরে অন্যের জমিতে কাজ করতেন নিজেও। এ ছাড়াও টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচও জুগিয়েছেন। মেধাবী হওয়ায় স্কুলের মাসিক বেতন ও পরীক্ষার ফি মওকুফ করে সহযোগিতা করেন তার শিক্ষকরাও।
১৯৯০ সালে গুরুদাসপুর উপজেলার হালসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯২ সালে নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন আলী আনোয়ার। পরে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কুষ্টিয়া শহরে মেসে থেকে টিউশনি করে নিজের খরচ চালান।
২০০০ সালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় আসেন তিনি। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাদের কোল জুড়ে এক সন্তান আসলেও প্রায় দেড় বছর পর জানতে পারেন ছেলে সন্তানটি বাকপ্রতিবন্ধী। তার খরচ জুগাতেই হিমশিমে পড়েন আলী আনোয়ার।
শিক্ষা ক্যাডারে মফস্বল এলাকায় শিক্ষকতা করলেও সন্তানের চিকিৎসার সুবাধে ভিকারুননিসা স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। কিন্তু যেখানে সন্তান ও পরিবারের খরচ জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে এবার নতুন করে আরেক যুদ্ধে নামতে হচ্ছে আলী আনোয়ারকে। তার এই কঠিন যাত্রায় সহায়তা চেয়েছেন দেশবাসীর কাছে।