০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৩

লটারির কারণে জেলা স্কুলের আগের মান আর নেই

লটারির কারণে জেলা স্কুলের আগের মান আর নেই  © সংগৃহীত

জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেছেন, স্কুলে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি চালুর পর জেলার স্কুলগুলোতে শিক্ষার মান আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে। তাই বর্তমান সরকার লটারির মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিলের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সময়োপযোগী ও সঠিক পদক্ষেপ বলে তিনি মনে করেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুলের অডিটোরিয়ামে ডেইলি ফ্রন্ট নিউজ পত্রিকার ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি মামুন বলেন- ‘সবসময় আমাদের জামালপুরের সকলেরই স্বপ্ন ছিল জেলা বয়েজ স্কুল আর গার্লস স্কুল। কিন্তু বিগত সময়ে লটারির মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়ার কারণে এটার শিক্ষার মান অনেক নিচে নেমে গেছে। আপনারা আমার সঙ্গে একমত হবেন কি না জানি না, তবে এটা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা। জেলা স্কুলের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এখন যেসব কাহিনী শোনা যায়, সেটা কল্পনার বাইরে।’

তিনি আরও বলেন- ‘বর্তমান সরকার লটারি প্রক্রিয়া বন্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি মনে করি এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। ওই লটারি প্রক্রিয়ার কারণে জেলা স্কুলের যে কোয়ালিটি ছিল, সেটা অনেক নিচে নেমে গেছে।’

ভর্তি পরীক্ষাভিত্তিক ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন- ‘আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, জেলা স্কুলের অল্টারনেটিভ কোনো স্কুল কিন্তু জামালপুরে ছিল না। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, হয়ত ভর্তি পরীক্ষায় ৮০ পাওয়া একটা ছেলে ভর্তি হয়েছে, আর ৭৯ পাওয়ার কারণে আরেকটা ছেলে আসন সীমিত থাকায় চান্স পায়নি। কিন্তু ৮০ আর ৭৯ পাওয়া দুই শিক্ষার্থীর কোয়ালিটির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য ছিল না। জেলা স্কুলে ভর্তি হওয়ার কারণে একজনের জীবন এক স্ট্যান্ডার্ডে চলে গেছে, আর এক নম্বর কম পাওয়ার কারণে আরেকজনের জীবন অন্য স্ট্যান্ডার্ডে চলে গেছে। কারণ ওই মানের আর কোনো অল্টারনেটিভ স্কুল তখন ছিল না।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেরুল্লাহর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব একেএম ইহসানুল হক মুঞ্জু, জাহাঙ্গীর সেলিম, মুখলেছুর রহমান লিখন সহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। বক্তব্য শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করেন।