০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৯

ছাত্রীকে লাথি দিয়ে ভিডিও ফেসবুকে, অভিযুক্তকে শাস্তি না দিয়ে উল্টো টিসি দুই শিক্ষার্থীকে

স্কুলড্রেস পরা এক ছাত্রীকে পেছন থেকে লাথি মারছে একটি ছেলে  © সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চতুর্থ শ্রেণি ও সপ্তম শ্রেণির দুই স্কুলছাত্রীকে পথে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরের পর থেকে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পোশাক পরা দুই শিক্ষার্থী ওয়াকওয়ে দিয়ে হাঁটার সময় পেছন থেকে এক কিশোর তাদের একজনকে সজোরে লাথি মারে। প্রতিবাদ করায় তাকে আবারও লাথি দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তের শাস্তির দাবি ওঠে।

এদিকে, নির্যাতনের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কিশোরের নাম দিলসাদ হোসেন। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়াকওয়েতে। ওই শিক্ষার্থী কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। গত এক মাস আগে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিসা আক্তার ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ের পাশে হাঁটতে যায়। এ সময় দিলশাদ হোসেন পেছন থেকে তানিসাকে পরপর দুইবার লাথি মারে। ছেলেটির সঙ্গে কেউ একজন সেটি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার সেটি সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই কিশোরকে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে কান ধরে উঠবস করানোর আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ওই ছেলেকে বলতে শোনা যায়, ‘একটি মেয়েকে আমি লাথি মেরেছি, সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেজন্য আমি মাফ চাচ্ছি। এই ভুল আমার দ্বারা আর হবে না, আমি কাঁচপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছি।’

এ বিষয়ে স্কুলছাত্রীর বাবা শাহীন মিয়া বলেন, আমার মেয়েকে লাথি মারার ভাইরাল ভিডিওটি আরও এক মাস আগের। স্কুল চলাকালীন বাইরে ঘোরাফেরা করায় স্কুলের স্যাররা বিচার করে আমার মেয়ে তানিসাকে টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে। তবে বখাটে ছেলেকে কি বিচার করেছে তা আমার জানা নেই। আমরা গরিব মানুষ। অল্প উপার্জনে কর্ম করে খাই। এখন এই স্কুলে পড়তে পারবে না। মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করতে হবে।

কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার জানান, স্কুল কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই দুই স্কুল ছাত্রীকে টিসি দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি স্কুলের বাইরে তাই স্থানীয় লোকজন ছেলে ও ছাত্রীদের বিচার করেছে।
 
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ভাইরাল ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।