০৯ জুলাই ২০২৬, ১৭:১১

বৃষ্টিতে চুঁইয়ে পড়ে পানি, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান

পূর্ব বারখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ইনসেটে শ্রেণিকক্ষ)  © টিডিসি

টানা বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষের ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। বাধ্য হয়ে বেঞ্চ সরিয়ে শুকনো জায়গা খুঁজে বসে পাঠ নিতে হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। কোথাও দরজা নেই, কোথাও আবার নেই জানালা। বৃষ্টিতে ভেজা মেঝেতেই চলছে পাঠদান। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পূর্ব বারখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনের চিত্র এটি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন এই জরাজীর্ণ ভবনেই এখন প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

শুধু এই একটি বিদ্যালয়ই নয়, পুরো আনোয়ারা উপজেলাজুড়েই বেশ কিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা এখন নাজুক। গ্রামীণ জনপদের এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, পূর্ব বারখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বছরের পর বছর নানা দুর্যোগে আশ্রয়ের জোগান দেওয়া এই ভবনের বিভিন্ন অংশ এখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষ করে ছাদের জলরোধী স্তর (রুফ ট্রিটমেন্ট) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে।

শুধু ছাদই নয়, ভবনটির ৪টি দরজা ও ৩০টি জানালা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে দরজা-জানালাবিহীন এই শ্রেণিকক্ষগুলো এখন অরক্ষিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এই পরিত্যক্তপ্রায় ভবনে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এতে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অবকাঠামোর পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে রয়েছে তীব্র আসবাব সংকট। প্রয়োজনীয় সংখ্যক হাই বেঞ্চ ও লো বেঞ্চের অভাবে অনেক শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে কিংবা কষ্ট করে পাঠ গ্রহণ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের ব্যবহারের জন্য ছয় সেট চেয়ার-টেবিলেরও সংকট রয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ভবনের ছাদ সংস্কার, দরজা-জানালা প্রতিস্থাপন এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ করা গেলে এখানে আবারও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

পূর্ব বারখাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলুয়ারা বেগম বলেন, বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করতে ভবনের ছাদ সংস্কার, ক্ষতিগ্রস্ত দরজা-জানালা প্রতিস্থাপন এবং প্রয়োজনীয় আসবাব সরবরাহ এখন সময়ের দাবি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি দিদারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাওয়া দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

আনোয়ারা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার এই বেহাল দশা ও অবকাঠামোগত সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ হিন্দোল বারী বলেন, ‘২০২৫ সালে পিডিবি-৪-এর অধীন আমাদের যে বরাদ্দ ছিল, তা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ২০২৬ সালে পিডিবি-৫-এর নতুন বরাদ্দ আসবে। আনোয়ারা উপজেলার পূর্ব বারখাইনসহ যেসব স্কুলে এ ধরনের অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, তার সব কটি তালিকাবদ্ধ করে আমরা নতুন প্রকল্পে পাঠাব।’

তবে নতুন এই প্রকল্পের বরাদ্দ পাস হয়ে কবে নাগাদ সংস্কার কাজ শুরু হবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে পারেননি এই কর্মকর্তা। ফলে উপজেলার শত শত শিক্ষার্থীর ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ নেওয়ার অবসান কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।