০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫

প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান বেড়েছে ২১ শতাংশ, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেও স্বস্তি

শ্রেণিকক্ষে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা  © এআই সম্পাদিত ছবি

অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের ফলে দেশের বিদ্যালয়গুলোতে হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী শিশুদের অংশগ্রহণ ১৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে তাদের বুলিং বা হয়রানির শিকার হওয়ার হার আগের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে। সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানও বেড়েছে ২১ শতাংশ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘নগদ অর্থ সহায়তার বাইরে: অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও জীবিকা উন্নয়ন কর্মসূচির নতুন প্রমাণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মূলধারার শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সাইটসেভার্স বাংলাদেশে ‘শিখবো সবাই’ নামে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়নে বিআইজিডি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অনুষদ যৌথভাবে গবেষণা পরিচালনা করে।

গবেষণাটি ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কর্মসূচির আওতায় থাকা ১২২টি বিদ্যালয়ের এক হাজার ৬১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশুর ওপর পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে ইফেক্টিভনেস অব আ হলিস্টিক এডুকেশনাল ইন্টারভেনশন ফর চিলড্রেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ: এভিডেন্স ফ্রম বাংলাদেশ (ইভালুয়েশন অব শিখবো সবাই প্রজেক্ট) শীর্ষক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন বিআইজিডির জ্যেষ্ঠ রিসার্চ ফেলো অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র দাস।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিবারে বাড়তি যত্ন এবং সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তাদের শিক্ষা ও সামগ্রিক বিকাশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।’

বিআইজিডির জেন্ডার অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ক্লাস্টারের প্রধান শায়লা আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ‘শিখবো সবাই’ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সাইটসেভার্সের এডুকেশন প্রজেক্ট ম্যানেজার আওয়ানা মারজিয়া।

প্রকল্পটির মূল্যায়ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি বা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়নও সমানভাবে জরুরি।

প্রতিবন্ধী পরিবারের আয় বেড়েছে ২০ শতাংশ
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন (ডিআইইউপিজি) কর্মসূচির ওপর পরিচালিত আরেকটি গবেষণার ফলাফলও প্রকাশ করা হয়। গবেষণাটি উপস্থাপন করেন বিআইজিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী মহিমা গোমেজ ও তাহাসিন তাসনিম মোহছে।

ক্যান ডিজঅ্যাবিলিটি-ইনক্লুসিভ পোভার্টি গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম রিডিউস পোভার্টি অ্যামং পারসোনা উইথ ডিজঅ্যাবিলিটি? শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, ডিআইইউপিজি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর মাসিক আয় গড়ে ২০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে মাসিক খাদ্য ব্যয় ৭ শতাংশ, খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় ২০ শতাংশ এবং উৎপাদনশীল সম্পদের মূল্য ২৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানও বেড়েছে ২১ শতাংশ।

ডিআইইউপিজি কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি) মো. গোলাম কিবরিয়া কর্মসূচির আওতায় উপকৃত কয়েকটি পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

গবেষণার মূল্যায়নে বিআইজিডির অধ্যাপক ও গবেষণা পরিচালক মুনসি সুলাইমান বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তুলতে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

আরও পড়ুন : নেই শিক্ষক, সংকট কম্পিউটারের—এক যুগেও পূরণ হয়নি আইসিটি শিক্ষার ঘাটতি

অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির ওপর গুরুত্বারোপ
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মাতিন বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মডেল গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।’

ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা তাহেরা জাবীন বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজে পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়নে তাদের অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের (এলএসএইচটিএম) ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর এভিডেন্স ইন ডিজঅ্যাবিলিটির সহকারী অধ্যাপক মার্ক ক্যারিউ গবেষণালব্ধ তথ্যকে বৃহত্তর পরিসরে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও কর্মসূচিতে কার্যকরভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে এলএসএইচটিএমের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর এভিডেন্স ইন ডিজঅ্যাবিলিটির সহযোগী অধ্যাপক (প্রতিবন্ধিতা গবেষণা) মরগান ব্যাংকস ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।