০৭ জুন ২০২৬, ২১:৫৫

হোমওয়ার্ক না করার অজুহাতে ক্লাসরুমে মাইলস্টোন ছাত্রকে পিটিয়ে জখম, নেপথ্যে কোচিং!

অভিযুক্ত শিক্ষক ও আহত ছাত্রের জখমের ছবি  © টিডিসি সম্পাদিত

ঈদের ছুটিতে হোমওয়ার্ক না করার অজুহাতে রাজধানী উত্তরার মাইলস্টোন কলেজ দক্ষিণখানে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বেত্রাঘাতের কারণে ওই ছাত্রের হাতে রক্ত জমাট বেঁধে গেছে এবং নখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। আজ রবিবার (৭ জুন) প্রতিষ্ঠানটির ক্লাসরুমে এ ঘটনা ঘটেছে।

অভিযুক্ত ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক অরূপ নাথ মারধরের বিষয়টি অকপটে স্বীকারও করেছেন। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি—অভিযুক্ত শিক্ষকের কোচিং সেন্টারে না পড়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তালহা জুবায়ের বাংলা মাধ্যম মৌশাইর শাখার নবম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্র। বেত্রাঘাত এবং মারধরের কারণে তালহা জুবায়েরের হাতের কব্জির ওপরের অংশ মারাত্মকভাবে ফুলে কালো ও বেগুনি রং ধারণ করেছে। চামড়ার নিচে রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্ন স্পষ্ট।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বড় ভাই ফারদিন ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঈদের সময় স্যাররা হোমওয়ার্ক দিয়েছিল। আজকে ফার্স্ট ক্লাস ছিল ঈদের পর। কিন্তু সে এইচডব্লিউ (হোমওয়ার্ক) করেনি। এই কারণে ওকে ১০-১২ বাড়ি বেত্রাঘাত করা হয়েছে। শুধু হাতের তালুতে বাড়ি দেয় নাই, তার কব্জির ওপরে যে রগগুলো আছে, ওখানে একদম রক্ত জমে লাল হয়ে গেছে। একই সাথে ওর নখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে।

তিনি বলেন, এরপর স্যার পড়া ধরছিল। ওকে যেহেতু আগেই মারা হয়েছে, একটু ভীত ছিল। ওকে পড়া ধরলে ও পড়া বলার মাঝখানে ওকে জিজ্ঞাসা করে যে তুমি কোন বই থেকে পড়া বলছ? এখন বিষয়টা হয়েছে, ওকে যে বইটা কিনতে বলেছে, ও এক্স্যাক্ট ওই বইটা না কিনে অন্য একটা বই কিনেছে। পড়া এক, কিন্তু বইটা আলাদা। তখন স্যার জিজ্ঞেস করে তুমি অন্য বই থেকে কেন পড়া বলছ? জুবায়ের বলে, স্যার এটা তো সেইম পড়া, আমি আপনাকে বের করে দেখাই। স্যার বলে, তোমার আমাকে বের করে দেখাতে হবে না। এই কথা বলে ওর গালে ঠাস করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। একেবারে ছাপ বসে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ও বাসায় এসে কাউকে কিছু বলেনি। কিন্তু ওর হাতে রক্ত জমাট বাঁধা, গালে থাপ্পড়। কান্না-টান্না করে একদম বাজে অবস্থা। পরে আমরা বরফ দিলাম। তবে এখনও রক্ত জমাট বেঁধে আছে। প্রয়োজন হলে মেডিকেলে নিয়ে যাব।

মাইলস্টোনের সাবেক এই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে। গত বছরও তালহা জুবায়েরকে বেধড়ক মারধর করেছিলেন এক শিক্ষক। তিনি বলেন, এই ক্যাম্পাসের সবগুলো স্যার এমন। ওনারা বলেন যে এখানে মারা একদম নিষেধ, কাউকে মারা হয় না। কিন্তু যেকোনো কারণেই তারা মারা শুরু করে। কোন মায়া-দয়া, কোন কিছু নাই। যেকোনো কারণেই তারা মারে। স্টুডেন্টরা একদম ভয়ের মধ্যে থাকে সব সময়। এর জন্য কেউ কোন কথা বলে না। আমি নিজে ছিলাম, আমি নিজেও কোন কিছু বলতাম না।

তিনি বলেন, ওনাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সব স্টুডেন্ট ওনাদের কাছে কোচিং করবে। জুবায়েরকেও এর আগে কোচিংয়ের কথা বলেছে। সে কোচিং করতে না করেছে। কিন্তু যাতে কোচিং করে, এর জন্য স্যারেরা সবসময় একটা চেষ্টা করতে থাকে যে কীভাবে ওর একটা ভুল ধরবে, কিভাবে আমাদের কাছে কমপ্লেন করবে।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক অরূপ নাথ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অকপটে স্বীকার করেছেন। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ওরা যেভাবে বর্ণনা করেছে তার সবটা সত্য নয়। বর্ণনা তো অনেক ভাবে করা যায়। যেমন কোচিং, কোচিংয়ের ব্যাপারে কাউকে কোন ধরণের জোর করা হয় না। বিষয়টা হোমওয়ার্ক রিলেটেডই ছিল।

শিক্ষার্থীদের মারধরে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও এভাবে মারধরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সরকার থেকে নিষেধাজ্ঞা আছে অবশ্যই। আমিও জানি।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মেজর (অব) এমএইচএম মঈন উদ্দীনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।