২১ মে ২০২৬, ১৪:১০

রাজধানীতে ছাত্রীর আত্মহত্যার পর স্কুলের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ  © টিডিসি ফটো

রাজধানীর দনিয়ায় ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহারের আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও গালিগালাজের অভিযোগ তুলে তার বিচার দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টার দিকে স্কুলের প্রবেশপথে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ‘সাবিকুন নাহার মরলো কেন, লিটন তুই জবাব দে’, ‘লিটনের বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে দেখা যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার (২০ মে) পরীক্ষার সময় দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন নাহারকে পরীক্ষার কক্ষ থেকে ডেকে নেন স্কুলের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন। সেখানে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরে ওই ছাত্রী আর ক্লাসে ফিরে না গিয়ে বাসায় চলে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ সাবিকুন নাহারের মাকে ফোন করে স্কুলে যেতে বলে। বিষয়টি নিয়ে তার মা মেয়েকে বকাঝকা করেন। এরপর বিকেলে দনিয়ার নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সাবিকুন নাহার।

সাবিকুন নাহারের এক সহপাঠী বলেন, ‘তার বান্ধবী পরীক্ষায় নকলও করেনি, কাউকে দেখেও লিখছিল না। অকারণে তাকে চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করে। একটা মেয়েকে এভাবে বললে লজ্জায় তার আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হবে না। আমরা মনে করি, স্কুলের চেয়ারম্যান লিটনের অত্যাচারে আমাদের বান্ধবী সাবিকুন নাহার এ পথ বেছে নিয়েছে। তাই এটি আত্মহত্যা নয়, মার্ডার। আমরা লিটনের বিচার চাই।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান লিটন মেয়েদের টিজ (উত্ত্যক্ত) করেন। তার কথামতো না চললে কারণে অকারণে ডেকে নিয়ে বকাঝকা ও গালিগালাজ করেন। টিসি দিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। আমরা লিটনের এ অত্যাচার আর মানবো না। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে স্কুলের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মঈদুর রহমান বলেন, ‘সহপাঠী আত্মহত্যা করায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ ছিল। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি।’ তবে ছাত্রীকে গালিগালাজ করা এবং তার মাকে ডেকে পাঠানোর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ফোনকল কেটে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্কুলের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তার মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, আত্মহত্যা করা সাবিকুন নাহারের বাবার নাম খলিলুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। পরিবারের সঙ্গে দনিয়ার নাসির উদ্দীন সড়কের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।

এ বিষয়ে কদমতলী থানা–র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘গতকাল ওই শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে। প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছিলাম, মায়ের ওপর অভিমান করে সে গলায় ফাঁস নিয়েছে। সেজন্য পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত করা হয়নি। শুধু মরদেহের সুরতহাল করা হয়। আজকে শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে বিক্ষোভ করছে বলে জেনেছি। পরিবার ও সহপাঠীরা কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখা হবে।’