১৯ মে ২০২৬, ১৪:১৭

উইপোকার পেটে বিদ্যালয়ে থাকা এসএসসির মূল সনদ

উইপোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত সনদ  © টিডিসি

চট্টগ্রামের উত্তর সাতকানিয়া আলী আহমদ প্রাণহরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার মূল সনদের একাংশ উইপোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চাকরির আবেদন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে এসএসসি পরীক্ষার মূল সনদ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নিয়মিত তদারকির অভাবে সেখানে উইপোকার উপদ্রব বেড়ে যায়। একপর্যায়ে আলমারি ও ফাইলবদ্ধ কাগজপত্রে উইপোকা আক্রমণ চালায়। সম্প্রতি একজন সাবেক শিক্ষার্থী তার সনদ নিতে গিয়ে এর একাংশ কাটা ও ছেঁড়া দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

উত্তর সাতকানিয়া আলী আহমদ প্রাণহরি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-২.৭৮ পেয়েছেন মোহাম্মদ ফরহাদ। তিনি বলেন, `সম্প্রতি আমি একটি চাকরিতে আবেদন করেছিলাম। এরপর বিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট আনতে গিয়ে দেখি সেটির একাংশ কাটা ও ছেঁড়া। এরপর আমি সেটি চাকরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার পর তারা সেটি গ্রহণ করেননি। পরবর্তী সময়ে আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করে নতুন আরেকটি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করার পরামর্শ দেন।’

ফরিদা বেগম নামের এক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন অবহেলা সত্যি দুঃখজনক। তাই এসব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষণে আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ স্টোররুম, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।’

উত্তর সাতকানিয়া আলী আহমদ প্রাণহরি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘২০২৫ সালের এসএসসি পরিক্ষায় আমাদের স্কুল থেকে শতাধিক পরিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। তার মধ্যে বেশ কিছু সার্টিফিকেট উইপোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাদেরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে নতুন সার্টিফিকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’

সাতকানিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আশীষ বরণ দেব বলেন, ‘বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলব। এ ক্ষেত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে নতুন সার্টিফিকেট সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।’