০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪৩

দুর্ঘটনায় ভিকারুননিসার পিকনিকের বাস

দুর্ঘটনাকবলিত বাস  © সংগৃহীত

দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি ছাত্রীদের পিকনিক বাস। এতে আহত হয়েছেন একজন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্বাচলে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ হাজারের বেশি ছাত্রী এবং সব শিক্ষক পিকনিকে যান। 

অভিভাবকদের অভিযোগ, এসএসসি পরীক্ষার জন্য যেখানে ছাত্রীদের নিবিড় প্রস্তুতির প্রয়োজন, সেখানে পুরো একদিনের এই পিকনিক তাদের পড়াশোনার মনোযোগ নষ্ট করবে।

এ বিষয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, অনেক আগেই তারা পিকনিক করতে চেয়েছিলেন কিন্তু নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে করতে পারেননি। পরীক্ষা সামনে চলে এসেছে বলেও তিনি করতে চাননি। কিন্তু ছাত্রীরা শেষে পিকনিকটা করতে চান। তাই আজকের এই আয়োজন।

বাস দুর্ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একজন লিখেছেন, বাংলাদেশের স্বনামধন্য স্কুল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই স্কুলে মেয়ে পড়ানোর জন্য আমরা মা-বাবারা পাগল হয়ে যাই এবং বাচ্চা কোনোমতে চান্স পেলেই হয়ে যাই আত্মহারা। এরপর বাচ্চার বাকি পথটুকু কেমন বন্ধুর তা জানে কেবল তার বাবা-মা আর সে নিজে। এতো অব্যবস্থাপনা এই স্কুলের যা বলার নয়।

তিনি বলেন, মূল শাখার কথা বলছি না, বাদবাকি ব্রাঞ্চগুলোর করুণ দশা। সব দেখে শুনেও চুপচাপ থাকি আমরা। তবে আজ একটু আক্ষেপ না করে পারছি না। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২১ এপ্রিল, ঠিক আর ২০টি দিন রয়েছে মাঝখানে। দশ বছরের মাধ্যমিক জার্নিতে মেয়েরা এসএসসি পরীক্ষার্থী হয়েই একটা পিকনিকে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের পিকনিক গতকাল ছিলো। সব ব্রাঞ্চ মিলিয়ে ২০০০ বাচ্চার স্কুল জীবনের একমাত্র পিকনিক কেমন হয়েছে সেই বিচারে যাচ্ছি না। জানতে চাই ডিসেম্বরে চাঁদা নেওয়া পিকনিক মার্চের এই মেঘ বৃষ্টি গরমে পরীক্ষার মাত্র ২০ দিন আগে কেন? এরপর বসুন্ধরা দিবা শাখার সি সেকশনের বাচ্চাদের বাসটি অ্যাক্সিডেন্ট করেছে তিনশো ফিটে।

দুর্ঘটনাকবলিত বাসের ছবি দিয়ে তিনি বলেন, এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় যদি প্রাণঘাতী হতো এর দায় কে নিত! বাচ্চাদের এখন হাত, পা ভাঙা, চোখে আঘাতসহ যেকোনো রকমের ইনজুরি এই কদিনে কীভাবে রিকভার করত! একটি মেয়ের হাত কেটেছে এবং চোখে ব্যথা পেয়েছে। জীবনের প্রথম অতি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার কদিন আগে এই দুর্ঘটনায় ওর পড়াশোনার ব্যাঘাত তো ঘটবেই, এই ক্ষতির ভার কাকে দেওয়া যায়! আমি শুনলাম বাসটা শুরু থেকেই ভীষণ খারাপভাবে চালানো হচ্ছিলো, ফেরার সময় দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের শুরুতেই চালককে সাবধান করা প্রয়োজন ছিলো। আমরা তো উনাদের ভরসায় বাচ্চাদের ছেড়ে দিই। স্কুলবাস সব সময়ই ধীরে চালান চালকের দায়িত্ব, আজ আমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিলো বলে আমাদের বাচ্চাগুলো বেঁচে ফিরেছে, শুকরিয়া। কর্তৃপক্ষ আরও একটু সচেতন হবেন আশা রাখা ছাড়া আর কিছুই চাওয়ার নেই।