০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৮

এক টাকার শিক্ষক লুৎফুর রহমান পেলেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

‘এক টাকা ‘ শিক্ষক’ও পেলেন সম্মাননা  © সংগৃহীত

গাইবান্ধার লুৎফুর রহমান। দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়িয়ে আসছেন মাত্র এক টাকার বিনিময়ে। আর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে সরকার। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে দেশের ১০২ জন গুণী শিক্ষকের সঙ্গে বিশেষ ক্যাটাগরিতে এই শিক্ষাব্রতীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি সবার কাছে পরিচিত হয়ে আছেন ‘এক টাকার শিক্ষক’ হিসেবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন লুৎফুর রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে দেওয়া হয় ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন লুৎফুর রহমান। অর্থের অভাবে যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকত, তাদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন শিক্ষার আলোকবর্তিকা। নিজের উদ্যোগে গড়ে তোলা এই শিক্ষাসেবা তাকে গাইবান্ধায় পরিচিতি এনে দেয় ‘এক টাকার শিক্ষক’ নামে।

লুৎফুর রহমান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি। তবুও দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। তার কাছে পড়েছে বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থী। এক টাকার বিনিময়ে পড়ানোর এই উদ্যোগ শুধু স্বল্প খরচে শিক্ষা দেওয়ার ঘটনা নয়, বরং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরির একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে তার এই দীর্ঘ শিক্ষাসেবা বিশেষ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পায়।

সম্মাননাপ্রাপ্ত ১০২ জন শিক্ষকের তালিকায় ছিলেন প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি, বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা, কৃষি ও প্রকৌশল শিক্ষার শিক্ষকরা। পাশাপাশি ছিলেন বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষাব্রতীরাও। লুৎফুর রহমান ছাড়াও বিশেষ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পাওয়া দুই শিক্ষক হলেন ‘রমনী কান্ত পাঠশালা’র রমনী কান্ত বেপারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষায় কাজ করা প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের সহকারী শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খান।

শিক্ষকদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাছাই করতে এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পৃথক বিচারক ও সার্চ কমিটি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে লুৎফুর রহমানের এই সংগ্রামী জীবনের গল্প এর আগেও ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই তাকে অভিহিত করেছেন ‘শিক্ষার নিভৃতচারী সৈনিক’ হিসেবে। তার এই স্বীকৃতি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন প্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।