০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৯

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চতুর্থ ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পেলেন চার পুরস্কার

আব্দুল্লাহ আল মনির  © সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য সাফল্য বয়ে এনেছেন ফেনী ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মনির। তার নেতৃত্বাধীন দল ‘নোভাট্রিক্স’ বিশ্ব টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এর আন্তর্জাতিক পর্বে বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। একই সঙ্গে দলটি পেয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার।

গত ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার সাইবারজায়ায় মাল্টিমিডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টুন চ্যান্সেলর হলে প্রতিযোগিতাটির আন্তর্জাতিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৪টি দেশের ১ হাজার ২০০ জনের বেশি প্রতিযোগী অংশ নেন। বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

পাঁচ সদস্যের ‘নোভাট্রিক্স’ দলে রয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মনির, তাফসিরুল ইসলাম জিশান, জান্নাতুল মাওয়া ইমু, মো. আরাফাত রহমান ও খন্দকার সাজিব জাহান। কয়েক মাসের প্রস্তুতি ও প্রকল্প উন্নয়নের পর দলটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

দলটির প্রকল্পের নামও ‘নোভাট্রিক্স’। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রোবট সিমুলেশনভিত্তিক একটি প্রয়োগ। প্রকল্পটিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে কাজ করা হয়েছে। পাশাপাশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রোবটের সিমুলেশন ব্যবহারের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি উপস্থাপনের পর আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলের প্রশংসা অর্জন করে।

আন্তর্জাতিক পর্বে ‘নোভাট্রিক্স’ চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ব টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জ ২০২৬-এর সেরা পাঁচের পুরস্কারে চতুর্থ স্থান, প্লাটিনাম পুরস্কার, স্বর্ণ পুরস্কার এবং ‘এ ডিস্টিংগুইশড ট্রিবিউট টু এক্সিলেন্স’ পুরস্কার।

একই আন্তর্জাতিক আয়োজনে চারটি পুরস্কার অর্জন মুনির ও তার দলের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২৪টি দেশের ১ হাজার ২০০ জনের বেশি প্রতিযোগীর মধ্যে এই সাফল্য এসেছে। এর পেছনে রয়েছে দলের কয়েক মাসের প্রস্তুতি, কঠোর পরিশ্রম ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা।

এই অর্জনে শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “বিশ্বমঞ্চে মুনিরের অসাধারণ সাফল্য ফেনী বিশ্ববিদ্যালয় এবং পুরো দেশের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়। ফেনী বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত গবেষণায় উৎসাহিত করে। বিশ্বমানের উদ্ভাবনের পথে আমাদের শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সহায়তা অব্যাহত রাখবে ট্রাস্টি বোর্ড।”

ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মাসুদুল হক চৌধুরী বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বমানের উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমাদের শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই অর্জন তারই প্রমাণ। এই বৈশ্বিক সাফল্য ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের নতুন গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে যুক্ত হতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে। বিজয়ী দলের জন্য আমার অব্যাহত সাফল্যের শুভকামনা রইল।”

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আফসার উদ্দিন বলেন, “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন চারটি সাফল্য অর্জন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ এবং ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। মুনির ও তার দলের অসাধারণ পারফরম্যান্স অন্য শিক্ষার্থীদের নতুন উদ্ভাবনে কাজ করতে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।”

বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে আব্দুল্লাহ আল মনির বলেন, “বিভিন্ন দেশের সেরা তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের প্রিয় ফেনী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার মর্যাদা তুলে ধরতে পেরেছি, এটিও আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।”

এই সাফল্যের পর আব্দুল্লাহ আল মনিরের সামনে অপেক্ষা করছে আরও একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিবোনাচ্চি আন্তর্জাতিক রোবট ও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত অলিম্পিয়াডের আন্তর্জাতিক পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও আসন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এখনো নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারেননি মুনির। এর কারণ আর্থিক সংকট। পৃষ্ঠপোষকতার সহায়তা পেলে আগামী নভেম্বরে ইতালির রোমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে ধরার সুযোগও তৈরি হবে।