০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৮

‘বাংলাদেশ যখনই সংকটময় মুহূর্তে পতিত হয়েছে, তখনই জিয়া পরিবার দেশের হাল ধরেছে’

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান  © টিডিসি

বাংলাদেশ যখনই একটি সংকটময় মুহূর্তে অবতীর্ণ হয়েছে, ঠিক তখনই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তার সহধর্মিণী দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আপসহীন নেত্রী প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের হাল ধরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও নির্যাতিতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও স্মৃতির মাগফিরাত কামনা করেন ইবি উপাচার্য। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ইবি উপাচার্য বলেন, ‘১৯৭৫ সালে একটি নির্যাতিত সরকারের পতনের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে যেমন দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছিল, তেমনি ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের মানুষের আকুন্ঠ সমর্থন নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায়ের পর ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন নিয়ে জনাব তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘বিগত সুদীর্ঘ ১৭ বছর দেশের অর্থনীতিসহ সকল ব্যবস্থাপনা ও সিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার টিম আপামর জনসাধারণের সমর্থন নিয়ে দেশকে নতুনভাবে পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত দিনের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে প্রতিনিয়ত তিলতিল করে কাজ করে যাচ্ছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই জায়গাতে পুনঃবার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমাদের প্রাণবন্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন এবং তাদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

এদিকে পতাকা উত্তোলন, র‍্যালি, শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

কর্মসূচিতে উপাচার্য ছাড়াও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান সহ জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব, কর্মকর্তা সমিতি, কর্মচারী সমিতি, শাখা ছাত্রদল এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।