০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২৩:১৩

কুবি শিক্ষার্থী-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

কুবি শিক্ষার্থী-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি  © টিডিসি ছবি

কুমিল্লা পুলিশ লাইনস-সংলগ্ন এলাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশের সদস্যদের মধ্যে সংঘটিত ঘটনায় প্রক্টর অফিসে সাধারণ মুচলেকায় মীমাংসা হয়েছে। এই ঘটনায় তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপর ফৌজদারী মামলা করার কথাও বলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটিতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হককে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মো. মহিউদ্দিন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. ফয়সল বিন আবদুল আজিজ এবং সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান। এ ছাড়া ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা শাখা) মোহাম্মদ ছাদেক হোসেন মজুমদার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংঘটিত এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে উপাচার্য বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিউশন শেষে রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ধরতে যাওয়ার সময় দুই শিক্ষার্থীর পথরোধ করে তাঁদের পকেটে হাত দিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিলেও পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি ওই ব্যক্তিরা। এতে শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হয়। পরে তাঁদের ভুয়া পুলিশ সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়।

তবে সেখানে উপস্থিত তিনজনের একজন এএসআই শ্যামল সাহার ভাষ্য, তাঁরা দুই শিক্ষার্থীকে দেখে তাঁদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য বলেছিলো।

শ্যামল সাহা বলেন, পরিস্থিতি দেখে তিনি সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাঁদের জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন।

এবিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল আমরা একটা সাধারণ সমাধান দিয়েছিলাম। তবে ডিউটিরত পুলিশ অফিসারকে মারধর করে শিক্ষার্থীরা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরেছে। যে পুলিশকে মেরেছে সে এখন হাসপাতালে ভর্তি আছে। অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। আমি আজকে তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এই ঘটনায় পুলিশ ও সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। আজকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিআইজি অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এই ঘটনায় মামলা করবে। তাই শিক্ষার্থীদেরকে যেন পুলিশের মামলায় পড়তে নাহয় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি করে তাদেরকে শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা ভালো থাকুক। কিন্তু এধরণের ঘটনা ঘটিয়ে তারা সবাইকে বিব্রত ও লজ্জিত করেছে। তারা যদি মারামারি না করে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করতো কিংবা শহরেই পুলিশের কাছে অর্পণ করতো তাহলে আমরা পুলিশ প্রশাসনকে প্রশ্ন করতে পারতাম। শিক্ষার্থীদেরকে এধরণের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।