ইবিকে আধুনিকায়ন বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের বার্তা নবনিযুক্ত আইসিটি সেল পরিচালকের
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে (ইবি) আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আইসিটি সেলের নবনিযুক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, পরীক্ষা, প্রশাসন, আর্থিক কার্যক্রমসহ ১২টি ক্ষেত্রে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে আলাপকালে বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে এসব পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান ডিজিটাল সেবার সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আইসিটি সেলের পরিচালক হিসেবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর যারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। এসব শুভেচ্ছার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সহজে সেবা পাওয়া, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে।
একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে সমন্বিত ইউনিভার্সিটি ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) ব্যবস্থা চালু, শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করা, পরীক্ষা ও ফলাফল ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য ও বেতন ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করা, অনলাইন ফি প্রদান ও আর্থিক কার্যক্রম সহজ করা এবং ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য সংরক্ষণে আধুনিক ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড সেবা গড়ে তোলা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কাগজবিহীন দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু, অনলাইন শিক্ষা ও গবেষণায় প্রযুক্তিগত সহায়তা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য আইটি হেল্পডেস্ক ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আইসিটি সেলের পরিচালক বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব ক্ষেত্রে মাত্র কয়েকটিতে সীমিত পরিসরে সেবা চালু রয়েছে। ফলে পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রত্যাশা পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদে বিদ্যমান সেবার মানোন্নয়ন, জরুরি প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমাতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে সমন্বিত ইউনিভার্সিটি ইআরপি, আধুনিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো, নিরাপদ তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু আইসিটি সেলের পক্ষে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় বাজেট, দক্ষ জনবল, পরিকল্পিত অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পাশাপাশি কোন কাজের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব কোন দপ্তরের, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিধি ও অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। আইসিটি সেল সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলবে।
তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা থাকবে। কোথায় সমস্যা রয়েছে, কী করা সম্ভব এবং কোন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় ও সম্পদ প্রয়োজন, তা বাস্তবতার আলোকে তুলে ধরা হবে। এ সময় শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণে সহায়তা করবে উল্লেখ করে তাদের আইসিটি-সংক্রান্ত সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধানের পরামর্শ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।