বরাদ্দ থাকলেও ফাইলবন্দি ইবির ডে-কেয়ার সেন্টার
বরাদ্দ মিলেছে দুই বছর আগে, গঠন করা হয়েছে কমিটিও। কিন্তু তবুও ফাইলবন্দি অবস্থায় আটকে রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিশু সন্তানদের দেখভালের সুবিধার্থে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম। ফলে বরাদ্দের ১০ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকে অলস পড়ে থাকলেও মাঠপর্যায়ের প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা। বরাদ্দ থাকার পরেও ন্যূনতম কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ জমেছে সংশ্লিষ্টদের মাঝে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম শেষে কেন্দ্র থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের শিশুদের নিরাপদ ও মানসম্মত দিবাকালীন সেবার জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের জন্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় প্রশাসন। এ জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের তৎকালীন ডিন অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব ছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত হিসাব পরিচালক শেখ জাকির হোসেন। তবে অর্থ বরাদ্দ ও কমিটি গঠনের মধ্যেই আটকে আছে পুরো কার্যক্রম।
এদিকে ক্যাম্পাসে ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকায় সন্তান নিয়ে ক্লাসে আসা নারী শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে নানান বিড়ম্বনায়। শিশুদের রাখার নির্দিষ্ট ও নিরাপদ কোনো জায়গা না থাকায় ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় মায়েদের। এর সঙ্গে ব্রেস্টফিডিং কর্নার ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এমন ভোগান্তিতে রয়েছেন নারী কর্মকর্তা কর্মচারীরাও। তাদের মাতৃত্বকালীন ছুটি থাকলেও ছুটি শেষে নবজাতক শিশুকে নিয়ে কর্মস্থলে যোগদান করতে বাধ্য হন তারা। এতে নানান সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী অনন্যা মিম বলেন, ‘ইবি ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কমনরুম ও ডে-কেয়ার সেন্টার অত্যন্ত জরুরি। গর্ভাবস্থায় কমনরুম না থাকায় আমাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সন্তান নিয়ে ক্লাসে আসার পর ক্যাম্পাসে ব্রেস্টফিডিং কর্নার কিংবা ডে-কেয়ার সেন্টার না থাকায় আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য বিভাগের আয়াদের কক্ষ কিংবা ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ খুঁজতে হয়েছে, যা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে দ্রুত কমনরুম, ডে-কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নারের ব্যবস্থা করা হোক।’
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদা খাতুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের জন্য টাকা বরাদ্দ থাকার পরও দুই বছরের বেশি সময় ধরে তা বাস্তবায়ন না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রশাসন চাইলে এত দিনে অন্তত প্রাথমিকভাবে সেন্টারটি চালু করতে পারত। কিন্তু বরাদ্দের অর্থ ব্যাংকে পড়ে থাকলেও সন্তান নিয়ে ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে মনে হচ্ছে, নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো প্রশাসনের কাছে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। আমরা আশ্বাস নয়, দ্রুত ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই।’
বরাদ্দ থাকার পরেও বাস্তবায়ন না হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার টাকা থেকে ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সেই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে রাখা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতায় ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর বিষয়ে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব শাখার পরিচালক মো. আনোয়ার পাশা বলেন, ‘বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অগ্রণী ব্যাংকের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। এ অর্থ এখনো নির্দিষ্ট কোনো খাতে ব্যয় করা হয়নি। প্রশাসন যদি চায় তাহলে কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত নিয়মনীতি অনুসরণ করে এখনো এই গচ্ছিত অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যবহার করা সম্ভব।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার প্রয়োজন। দেশের অনেক সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এটির প্রচলনও রয়েছে। অনেক সময় বাচ্চাদের রাখার জায়গা না থাকায় কর্মক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ে। আমরা দায়িত্বে আসার পরে এ ব্যাপারে কেও জানায়নি। তবে যেহেতু ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে একটি বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ রয়েছে, বিষয়টা প্রশাসন বিবেচনা করে দেখবে।’