২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫১

‘বেকার তৈরির কারখানা হিসেবে কাজ করলে বিশ্ববিদ্যালয় রাখার অর্থ কী’

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান  © সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, ২০২৬ সালে যদি আমাদের বেকারত্ব হার ২০ শতাংশ হয়, আর আমরা যদি এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে এই সংখ্যা ২০৩০ সালে গিয়ে অনেক বেশি হয়ে দাঁড়াবে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি বেকার তৈরির কারখানা হিসেবে কাজ করে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় রাখার অর্থ কী? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, কারিকুলাম সংস্কার এবং কর্মমুখী শিক্ষা চালুর ওপর জোর দিতে হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজনে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং বিভিন্ন বিভাগের সভাপতিরা অংশগ্রহণ করেন।

ইবি উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের কাজ এখানে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। সেটি যদি আমরা করতে না পারি, তাহলে এখানে প্রতি মাসে যে টাকাটা সরকারের, রাষ্ট্রের, জনগণের যেটা ব্যয় হয় সেটা বিফলে যাবে। এ মাসেই আমরা বেতন অনুমোদন দিলাম প্রায় ১৫ কোটি টাকার এক মাসে যদি এই পারিমাণ টাকা ব্যয় হয় তাহলে বছরে কতো চিন্তা করুন। রাষ্টের এই টাকা আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি কিনা সেটা ভাবতে হবে।’

শিক্ষার প্রচলিত ধারা নিয়ে প্রশ্ন রেখে উপাচার্য বলেন, ‘বর্তমান সময়ে কেবল তাত্ত্বিক পড়াশোনার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। গ্লোবাল কন্টেক্সটের পরিবর্তনের গতির সাথে আমাদেরও তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা শুধুমাত্র থিওরি বেসড এডুকেশনটাকে বেশি প্রায়োরিটি দিয়েছি। কিন্তু বর্তমান সময়ে থিওরিটা প্রয়োজন আছে, কিন্তু আপনাকে প্র্যাকটিক্যাল বেসড এডুকেশনটা নিয়ে আসতে হবে।’

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জব মার্কেটের সাথে যুক্ত করতে এবং দক্ষতা বাড়াতে ইন্ডাস্ট্রির সাথে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর বা 'উইন-উইন' অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইবি উপাচার্য। পাশাপাশি, বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের নির্দেশনা অনুযায়ী কারিকুলাম ও সিলেবাস যুগোপযোগী করার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ নাজিমউদ্দীনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান।