২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪২

১৮তম বিজেএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯ সহকারী জজকে ইবিতে সংবর্ধনা

বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আইন অনুষদের উদ্যোগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান  © সংগৃহীত

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সহকারী জজ (সিভিল জজ) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৯ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আইন অনুষদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ নাজিমুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। এ ছাড়া আইন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে আইন বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের আরিফুল ইসলাম; ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আসিফ হোসেন ও শফিক শোভন; ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাদিয়া আফরিন খান; ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ও অ্যাডভোকেট সালমা খাতুন; ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মেহবুবা মোহিনী, শাকির আলম, রফিকুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, শারমিন খাতুন ও ইয়াসমীন খাতুন; ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের খালিদ লিখন এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আমজাদ হোসেন রয়েছেন।

এ ছাড়া আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তৌহিদুল ইসলাম ও এ. এইচ. হাবিব; ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নুসরাত জাহান তানি এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রোকনুজ্জামান রায়হান সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রাজু আহমেদও এ তালিকায় রয়েছেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ তার সুনাম ও মান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সৃষ্টিকর্তার রহমত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়ায় তারা এ সাফল্য অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের এ অর্জনকে সম্মানিত করায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ ধরনের সংবর্ধনা জুনিয়র শিক্ষার্থীদের আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজেদের নিয়োজিত রাখতে সবার দোয়া কামনা করেন তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ১৮তম জুডিশিয়ারিতে সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে আইন পেশা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ গরিব মানুষের কল্যাণে আপনাদের কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জুডিশিয়ারির ভাইবা বোর্ডে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন উপস্থিত থাকেন কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রতিনিধি থাকেনা। বিজেএসসি’র অর্ডিন্যান্স কিভাবে সমাধান করা যায় আমি সেটা অবশ্যই সমাধান করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে আইন অনুষদের ডিন এবং শিক্ষকবৃন্দ তথ্য দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করবেন। ইবির সকল অনুষদের সকল শিক্ষার্থীকে দক্ষ এবং কার্যকর করার ক্ষেত্রে সকল লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে প্রশাসন প্রস্তুত আছে। আইন বিভাগ থেকে চাইলেই বিজেএস, বিসিএস এবং আইনজীবী পেশায় যুক্ত হওয়ার  সুযোগ রয়েছে। আগামীতে জুডিশিয়ারির সংখ্যা ১৯ থেকে ৫০ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

সভাপতির বক্তব্যে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নাজিমুদ্দিন বলেন, ‘আইন অনুষদে থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত সকলকে অভিনন্দন। আগামীতেও আমরা এমন সংবর্ধনা আয়োজন করব। উপাচার্য স্যার এ বিষয়ে আমাদের সম্মতি দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় অতিদ্রুত আজকের আয়োজন করতে পেরেছি।’

তিনি সুরা আন-নিসার ১৩৫ আয়াতের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর সাক্ষীস্বরূপ—যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা এবং নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়। (যার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে) সে যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের উভয়েরই বেশি হিতাকাঙ্ক্ষী। সুতরাং ন্যায়বিচার করতে গিয়ে তোমরা প্রবৃত্তির অনুগামী হয়ো না। আর যদি তোমরা পেঁচাও অথবা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজের খবর রাখেন।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে মোট ১৯ জন শিক্ষার্থী সহকারী জজ (সিভিল জজ) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আইন বিভাগ থেকে ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ থেকে চারজন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগ থেকে একজন রয়েছেন।