সমাবর্তন ফি নিয়ে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা, ক্যাম্পাস খুললে কর্মসূচি ঘোষণা জকসুর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। ফি কমানোর দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফি কমানোর আশ্বাস দিলেও এখনো সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। ক্যাম্পাস খোলার পরও ফি কমানো না হলে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি নির্ধারণের আলোচনায় নির্বাচিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের রাখা হয়নি। বিষয়টি জানার পর তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় প্রশাসন ফি কমানোর আশ্বাস দিলেও এখনো নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি।
রিয়াজুল ইসলাম আরও জানান, সদ্য স্নাতক শেষ করা শিক্ষার্থীদের জন্য সমাবর্তনের বর্তমান ফি বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে। ক্যাম্পাস খোলার পরও ফি কমানো না হলে জকসুর পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতাও কামনা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ৮ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁদের দিতে হবে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। স্নাতকোত্তর ও এমবিএ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মোট ফি ৬ হাজার ৫০০ টাকা। এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং সান্ধ্যকালীন ও পেশাগত প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৮০০ টাকা।
এদিকে, সমাবর্তনের ফি পুনর্নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সামর্থ্যের মধ্যে রাখার দাবি জানিয়ে গত ৮ অক্টোবর বিবৃতি দেয় জকসু। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম আরিফ স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে সদ্য স্নাতক শেষ করা শিক্ষার্থীদের আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ফি কমানোর দাবি জানানো হয়।
সমাবর্তনের ফি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অনেকে বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট, বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াত খরচের মতো নানা ব্যয়ের মধ্যে একসঙ্গে কয়েক হাজার টাকা দিয়ে সমাবর্তনে নিবন্ধন করা কঠিন। কেউ কেউ ফি কমানো না হলে সমাবর্তন বয়কটের কথাও জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল হাসিব বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকটসহ নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সুযোগ-সুবিধাও কম। অনেক শিক্ষার্থী টিউশনি করে কিংবা পরিবারের সীমিত আর্থিক সহায়তায় পড়াশোনার খরচ চালান। এমন পরিস্থিতিতে সমাবর্তনের জন্য একসঙ্গে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া অনেকের জন্যই কঠিন। তাই শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের ফি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল আলী বলেন, ‘সমাবর্তন শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু ফি বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এতে অংশ নিতে সমস্যায় পড়তে পারেন। কী বিবেচনায় এত বেশি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের অসুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা এবং ফি পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দীন জানান, সমাবর্তনের ফি কমানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে পরে জানানো যাবে।
উল্লেখ্য, আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।