১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১৭

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরুর মাংস ইস্যু নিয়ে বিবৃতি দিল প্রশাসন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন আলোচনা ও বিভ্রান্তি নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বক্তব্য স্পষ্ট করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর পরিচালক এ বিষয়ে গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠান।

এতে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ রাতে জবি ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় যা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত প্রক্টরের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই সমাধান করা হয়।পরবর্তীতে ঘটনার পরদিন সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা ও বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি অধিকতর সন্তোষজনকভাবে সমাধান হয়। 

এছাড়া অদ্য ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতিপয় শিক্ষার্থীকে শোকজ প্রদানের ভিত্তিহীন অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।

তদপুরি কিছু কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতিপয় শিক্ষার্থী আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। বিষয়টি প্রক্টরের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নিয়ে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি কিংবা ধর্মীয় সম্প্রীতির অবনতি এড়াতে সবাইকে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। যেহেতু দুইদিন আগে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন আর কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এই আহ্বান জানিয়েছেন। তবে প্রক্টরের এই আহ্বানের ফলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, যার জন্য প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান হচ্ছে ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যে কোন অনুষ্ঠানাদি উদযাপনের এখতিয়ার সকলেরই রয়েছে। তবে একটি উদযাপন যেন অন্য কোন উদযাপনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সে বিষয়ে সকলেরই সচেষ্ট থাকা একান্ত প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা প্রকাশ করে, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।