ছাত্র থেকে একই কলেজের বিভাগীয় প্রধান, সমাজকর্মের বই রচনায় খ্যাতি ছড়িয়েছেন শহিদুল ইসলাম
শিক্ষকতা শুধু পাঠদান নয়, জ্ঞান সৃষ্টি ও তা ছড়িয়ে দেওয়ারও এক নিরন্তর প্রচেষ্টা। সেই প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন সমাজকর্মের শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি সমাজকর্ম বিষয়ের পাঠ্যবই রচনা করে শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেকে পরিচিত করে তুলেছেন তিনি। তাঁর লেখা বই উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীদের পাঠ ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার মানসিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মো. শহিদুল ইসলাম। তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ছিল মেধার স্বাক্ষর। ১৯৯২ সালে তারাশ ইসলামিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। সে বছর মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞান—তিন বিভাগ মিলিয়ে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ ফল অর্জনের কৃতিত্বও তাঁর বলে জানা যায়। ১৯৯৪ সালে সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেন।
পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে সমাজকল্যাণ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। শিক্ষাজীবনে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় মেধাবৃত্তি অর্জন তাঁর শিক্ষাগত পথচলাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
পেশাগত জীবনে তিনি বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজকর্ম বিষয়ে পাঠ্যবই রচনায়ও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন তিনি। প্রায় ১৯ বছরের লেখালেখির অভিজ্ঞতায় তাঁর প্রকাশিত বইয়ের তালিকায় যুক্ত হয়েছে সমাজকর্মের বিভিন্ন শাখার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তাঁর রচিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে সমাজকর্মের ইতিহাস ও দর্শন, সমাজকর্ম পরিচিতি, সামাজিক সমস্যা, সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনা, বাংলাদেশে সমাজকল্যাণ সেবা, সমাজকল্যাণ আইন, সামাজিক প্রশাসন, মাঠকর্ম, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নারী ও পরিবারকল্যাণ, শ্রম আইন, শিশু-কিশোর ও প্রবীণকল্যাণ, নির্দেশনা ও পরামর্শদান এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বই। এ ছাড়া অনার্সের প্রথম থেকে চতুর্থ বর্ষ এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও তিনি বিভিন্ন পাঠ্য ও সহায়ক গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তাঁর বই প্রকাশনায় যুক্ত রয়েছে দিকদর্শন, গ্রন্থ কুটির, কাজল ব্রাদার্স লিমিটেড, মিজান লাইব্রেরি ও ওরাকল পাবলিকেশন্সের মতো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। পাঠ্যসূচিভিত্তিক বিষয়বস্তুকে শিক্ষার্থীদের বোধগম্য করে উপস্থাপন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করার লক্ষ্যেই তাঁর লেখালেখির এই ধারাবাহিকতা।
শিক্ষকতা ও লেখালেখির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তাঁর কর্মজীবন সমাজকর্ম শিক্ষার প্রসারে একটি উল্লেখযোগ্য অবদান। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান এবং বইয়ের মাধ্যমে বৃহত্তর শিক্ষার্থীসমাজের কাছে জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা তাঁকে শিক্ষকতার গণ্ডির বাইরেও পরিচিতি দিয়েছে।
শিক্ষক শহিদুল ইসলামের কর্মজীবনের এই পথচলা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার। জ্ঞানচর্চা, পাঠদান ও বই রচনার মধ্য দিয়ে তিনি যে অবদান রেখে চলেছেন, তা সমাজকর্ম বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।