ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ শিক্ষার্থী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আটটি অনুষদের ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে কৃতিত্বপূর্ণ অ্যাকাডেমিক ফলাফলের স্বীকৃতি স্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে এ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি অনুষদের ডিনবৃন্দ।
থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের মধ্যে থেকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত নয় শিক্ষার্থী হচ্ছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ আল-ফিড, আলী আহসান মোহাম্মদ জুবায়ের, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাঈমুর রহমান; আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আহসান ভূঁইয়া এবং দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নাজমুল ইসলাম ও নোমান আল হাদী।
কলা অনুষদ থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মোছা. তানজিলা খাতুন, মো. হাফিজুল ইসলাম ও জেবা রহমান অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে লোকপ্রশাসন বিভাগের মো. মুনতাকিম রহমান, অর্থনীতি বিভাগের মো. টগর আলী ও জেসিয়া খাতুন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মোছা. সিরাজম মনিরা এবং আইন অনুষদের মধ্যে ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সাদিয়া, রফিয়া খাতুন ও মোছা. হাফসা খানসান সন্ধানী ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সুমি খাতুন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রত্যয় সানা, মো. সিরাজুল ইসলাম ও অনিন্দ্য সাহা এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের মেহেদী হাসান সিকদার ও ফয়সল আহমেদ ফাহিম এবং বিজ্ঞান অনুষদ থেকে পরিসংখ্যান ও তথ্য বিজ্ঞান বিভাগের মো. মেহেদী হাসান লিমন ও মো. মাহমুদুল ইসলাম এবং গণিত বিভাগের আরিফুল ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ থেকে ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের মোছা. মোহনা রহমান নাইস, জান্নাতুন নাঈম ও নাফিজ রহমান সায়েম; ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আহসান হাবীব এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মো. মাহফুজুর রহমান অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। জীববিজ্ঞান অনুষদ থেকে ফার্মেসি বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মো. আব্দুল বাশার এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. মেহেদী হাসান ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান শিক্ষার্থীদের এই অর্জনকে তাঁদের যোগ্যতা, মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ২০২২ সালে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন থাকাকালে আমি নিজে এই ডিনস অ্যাওয়ার্ড নীতিমালার খসড়া তৈরি করে তৎকালীন প্রশাসনের কাছে চালুর প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। এই ডিনস অ্যাওয়ার্ড উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বিদেশে স্কলারশিপ, উচ্চশিক্ষা কিংবা ফান্ডিংয়ের আবেদনসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে অনেক বেশি সুদৃঢ় করবে। এটি প্রাপ্তদের ওপর কেবল মর্যাদা বাড়ায় না, বরং নতুন এক সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব অর্পণ করে।"
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বোর্ডের বিচারক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কেবল ভালো ফলাফল বা উচ্চ সিজিপিএই যথেষ্ট নয়; জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বকীয়তা তুলে ধরতে হলে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি ‘প্রেজেন্টেবল’ হতে হবে। শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় সফল হতে হলে ভাষাগত দক্ষতা, পেশাগত গভীর জ্ঞান ও উপস্থাপনা দক্ষতা বাড়াতে হবে। মেধা, মনন, পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে এই ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের আরও বেশি শাণিত করার একটা সুযোগ তৈরি হলো। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে নিজের কর্মক্ষেত্র, দেশের মানুষের জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সম্মানের জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ভূমিকা রাখবে—এটিই আমাদের প্রত্যাশা।