০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫

বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশিদের মধ্যে শীর্ষ দশে যারা

বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় দেশ সেরা ১০ গবেষক   © টিডিসি সম্পাদিত ছবি

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় বাংলাদেশ থেকে স্থান পেয়েছেন ৩৪৭ জন গবেষক। এর মধ্যে দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা রয়েছেন। এই তালিকায় বাংলাদেশিদের মধ্যে শীর্ষ ১০-এ থাকা গবেষকদের মধ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভিয়ার’ বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের এই তালিকা প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।

তালিকায় বাংলাদেশের ৩৪৭ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৮৬ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তালিকায় বাংলাদেশের গবেষকের সংখ্যা বেড়েছে ৬১ জন। শতকরা হিসাবে এ বৃদ্ধি ২১ দশমিক ৩ শতাংশ।

গবেষকের সংখ্যার হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। গত বছরের তুলনায় দেশটি এক ধাপ এগিয়েছে। একই সঙ্গে তালিকায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৭৪টি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষকেরা তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। চলতি বছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮টিতে। অর্থাৎ এক বছরে প্রতিষ্ঠানসংখ্যা বেড়েছে ১৪টি বা ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, কনসিস্টেন্সি এবং সহ-লেখকদের প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের প্রকাশিত এই তালিকায় বাংলাদেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থানেও দেশের গবেষণা খাতের অগ্রগতির চিত্র উঠে এসেছে।

বাংলাদেশিদের মধ্যে শীর্ষ ১০-এ থাকা গবেষকদের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মির্জা হাসানউজ্জামান। তালিকায় বাংলাদেশে তার র‍্যাঙ্ক ১ এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্ক ৩৭৯। তার গবেষণার উপ-ক্ষেত্র উদ্ভিদ জীববিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞান।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুনতাসির মুর্শেদ। বাংলাদেশে তার র‍্যাঙ্ক ২ এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্ক ৯৫৭। তার গবেষণার উপ-ক্ষেত্র পরিবেশ বিজ্ঞান।

তৃতীয় স্থানে রয়েছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. মোঃ তরিকুল ইসলাম। বাংলাদেশে তার র‍্যাঙ্ক ৩ এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্ক ৫ হাজার ৪৯৭। তার গবেষণার উপ-ক্ষেত্র মেডিসিনাল ও বায়োমোলিকুলার রসায়ন।

চতুর্থ স্থানে রয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। বাংলাদেশে তার র‍্যাঙ্ক ৪ এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্ক ৭ হাজার ৮৮৫। তার গবেষণার উপ-ক্ষেত্র ফলিত পদার্থবিজ্ঞান।

পঞ্চম স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের গবেষক এম. খালিদ হোসেন। বাংলাদেশে তার র‍্যাঙ্ক ৫ এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্ক ৮ হাজার ৯৫। তার গবেষণার উপ-ক্ষেত্র ফলিত পদার্থবিজ্ঞান।

ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আবু রেজা মোঃ তৌফিকুল ইসলাম। বাংলাদেশে তার র‍্যাঙ্ক ৬ এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্ক ১৩ হাজার ৪৫৯। তার গবেষণার উপ-ক্ষেত্র পরিবেশ বিজ্ঞান।

সপ্তম স্থানে রয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোঃ রবিউল ইসলাম। বাংলাদেশে তার র‍্যাঙ্ক ৭ এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্ক ১৪ হাজার ৩২৭। তার গবেষণার উপ-ক্ষেত্র অনকোলজি ও কার্সিনোজেনেসিস।

অষ্টম স্থানে রয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আমিনুল ইসলাম। বাংলাদেশে তার র‍্যাঙ্ক ৮ এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্ক ১৫ হাজার ৮৫৯। তার গবেষণার উপ-ক্ষেত্র শক্তি (এনার্জি)।

নবম স্থানে রয়েছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ গোলাম রসূল। বাংলাদেশে তার র‍্যাঙ্ক ৯ এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্ক ১৬ হাজার ৪১৮। তার গবেষণার উপ-ক্ষেত্র শক্তি (এনার্জি)।

দশম স্থানে রয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষক গোলাম রসূল। বাংলাদেশে তার র‍্যাঙ্ক ১০ এবং বিশ্ব র‍্যাঙ্ক ১৬ হাজার ৭৩২। তার গবেষণার উপ-ক্ষেত্র এগ্রোনমি ও কৃষি।