ইউজিসির অনুমোদন পেল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন দুই বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের অধীনে নতুন দু’টি বিভাগ চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বিভাগ দুটি হলো- ‘তুলনামূলক তাফসীর’ ও ‘সিরাত আল-নাবাবিয়া’।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ইউজিসির ইন্সপেকশন ও মনিটরিং শাখা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
চিঠিতে বলা হয়, কমিশন কর্তৃক গঠিত কমিটির সুপারিশের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক অবকাঠামো ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা, বিধিবদ্ধ বিধান, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন এবং স্নাতকদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বিভাগ দুটি খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ইউজিসির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রতিটি বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। তবে আপাতত বিভাগ দুটির শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নতুন পদ ছাড় করা হয়নি। শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা বিবেচনায় পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে পদ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩০তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এবং ৩১ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিভাগ দুটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পূরণের পথে ফিরে আসছে দেখে ভালো লাগছে। বিভাগগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম যেন শুরু থেকেই মানসম্মতভাবে পরিচালিত হয়, সেটাই প্রত্যাশা।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব। তিনি লিখেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি নতুন বিভাগ- তুলনামূলক তাফসির ও আস-সীরাহ আন-নববিইয়া খোলার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি বাংলাদেশের ইসলামী উচ্চশিক্ষার গতিপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, এই দুই বিভাগ চালুর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এক ধাপ এগিয়ে গেল। আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভাবধারা ও লক্ষ্য ঠিক রেখেই একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।