০২ অক্টোবর ২০২৬, ২০:০৫

যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন  © টিডিসি সম্পাদিত

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন, দুই সহযোগী অধ্যাপক ও দুই সহকারী অধ্যাপকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুদক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুদকের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা মো: আকতারুল ইসলাম।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হবে। অপর মামলাটি করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের (এনএফটি) দুই সহযোগী অধ্যাপক ও দুই সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন ছাড়াও রয়েছেন মেডিকেল অফিসার (আবাসিক) ডা. নুসরত জামান ও সাবেক রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো: আহসান হাবীব। অপর মামলায় অভিযুক্তরা হলেন পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: ওমর ফারুক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: শিমুল ইসলাম এবং সহকারী অধ্যাপক মো: মাহমুদুল হাসান ও তানভীর আহমেদ।

এ বিষয়ে জানতে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ার হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

অভিযুক্ত সাবেক রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো: আহসান হাবীবের চাকরির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, দুদক আমার বিরুদ্ধে মামলা করবে এমন কিছুটা শুনেছি। কাল বিভাগে গিয়ে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জানতে হবে।

একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: শিমুল ইসলাম বলেন, নিয়োগে যে সমস্যা ছিল, সেটি আমিই প্রথম ধরেছিলাম। আমরা শুধু বলেছি, ভাইভার জন্য কার্ড দেওয়া যেতে পারে। নিয়োগ তো দিয়েছে নিয়োগ বোর্ড। এরপর প্ল্যানিং কমিটি বাছাই করে কারা ভাইভার জন্য ডাকতে পারে। কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে বা হবে না, সেটি নিয়োগ বোর্ডের বিষয়। দুদক যে অনিয়মের বিষয়টি ধরেছে, সেটি আমিই ধরিয়ে দিয়েছি। এখন আমাকেই ফাঁসানো হচ্ছে।

সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ বলেন, আমাদের এনএফটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের প্ল্যানিং কমিটির কাজ ছিল বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী প্রার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার প্রাথমিক কার্ড দেওয়া। চূড়ান্ত নিয়োগের এখতিয়ার ছিল নিয়োগ বোর্ডের। মাহমুদুল হাসানের ড্যাফোডিলে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ও পিএইচডি থাকায় আমরা তাকে ভাইভার জন্য কার্ড দিয়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে প্রার্থীর আবেদন ফরমে তথ্য রদবদলের অভিযোগ উঠলে দুদক আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমি লিখিতভাবে জানিয়েছি, আবেদনপত্রের ওই সূক্ষ্ম ভুল ধরা প্ল্যানিং কমিটির পক্ষে সম্ভব হয়নি। আমরা শুধু যোগ্যতা দেখে কার্ড দিয়েছি, নিয়োগ দিইনি। নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্ব নিয়োগ বোর্ডের। এখানে আমাদের কোনো কাজ নেই।

একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান চাকরি ছেড়ে অনেক আগেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে গেছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরত জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।