০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩

সেশনজটের বলির পাঠা ইবি শিক্ষার্থী মামুন, আটকে গেল প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক

ইবির ফার্মেসি বিভাগ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী  © টিডিসি সম্পাদিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ব্যাচভিত্তিক ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফলাফল এবং ইউজিসি বৃত্তির মনোনীত তালিকা ঘিরে দেখা দিয়েছে চরম জটিলতা ও অসন্তোষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় সেশনজট ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার বলি হয়েছে এক মেধাবী শিক্ষার্থী। যার ফলে মেধার স্বীকৃতি হিসেবে আসন্ন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি অনুষদের সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ইউজিসি বৃত্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। উক্ত তালিকায় জীববিজ্ঞান অনুষদ থেকে সর্বোচ্চ ৩.৯০ সিজিপিএ পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে মনোনীত হন ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তবে বিপত্তি বাধে পরীক্ষার সময়সীমা ও ফলাফল প্রকাশের তারিখ নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদ নির্ধারিত সময়সীমা (২০২৫ সালের মধ্যে) পরীক্ষা সম্পন্ন ও ফল প্রকাশ করতে পারলেও, জীববিজ্ঞান অনুষদের বিভাগীয় সেশনজট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পরীক্ষা শুরু হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে এবং চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে। এর আগে ইউজিসি কর্তৃক ঘোষিত নোটিশে ২০২৫ সালের মধ্যে ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার শর্ত জুড়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ও অনুষদের প্রশাসনিক গাফিলতি এবং দীর্ঘ সেশনজটের কারণে ফলাফল বিলম্বে প্রকাশ হওয়ায়, এখন নিয়ম বা নীতিমালার অজুহাত দেখিয়ে প্রথম স্থান অধিকারী আবদুল্লাহ আল মামুনকে বৃত্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুষদের এই সিদ্ধান্তে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী। নিজের মেধা ও যোগ্যতাবলে অর্জিত প্রথম স্থান এবং প্রাপ্য অধিকার ফিরে পেতে ইতিমধ্যে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন বরাবর লিখিত অভিযোগ ও প্রতিকার চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অভিযোগপত্রে মামুন উল্লেখ করেন, বিভাগের সেশনজট ও প্রশাসনিক বিলম্বের পেছনে শিক্ষার্থীর কোনো ব্যক্তিগত ত্রুটি বা অবহেলা ছিল না। সম্পূর্ণ প্রশাসনিক কারণে সৃষ্ট এই বিলম্বের খেসারত একজন শিক্ষার্থী কেন দেবে? সেশনজটের দায় পুরোপুরি অনুষদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

আরও দেখুন: তীব্র আবাসন সংকটে ভুগছে গোবিপ্রবি, প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসনের বাইরে

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নীতিমালার অজুহাতে তাকে বাদ দিয়ে পরবর্তী অবস্থানের কাউকে সুবিধা দেওয়া হলে তা হবে স্পষ্ট মেধার অবমূল্যায়ন ও চরম অন্যায়।

শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এই বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়সংগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে উপাচার্যের (ভিসি) নিকট উপস্থাপন এবং দ্রুত প্রশাসনিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, অনুষদের নিজস্ব জটিলতার দায় শিক্ষার্থীর ওপর না চাপিয়ে দ্রুত আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলী সাবিনা আজহার বলেন, ‘ইউজিসি প্রদত্ত নোটিশে ২০২৫ সালের মধ্যে অনার্স শেষ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, এখানে শুধুমাত্র শিক্ষাবর্ষের কথা বলা হয়নি। সুতরাং একইভাবে আগামীতে ইউজিসি বৃত্তি দিলে তার হয়তো সুযোগ থাকতে পারে৷ তাছাড়া এটা ইউজিসির নীতিমালা। তারা যেভাবে নোটিশ করেছে ঐভাবেই আমাদের করতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ বলেন, ‘আমি ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগেই এসব প্রক্রিয়া হয়েছে। এবিষয়ে উচ্চতর সিদ্ধান্তের জন্য আগামী শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসে বিষয়টি নোটিশ আকারে পাঠাবো। উনারা যে সিদ্ধান্ত দিবেন ঐটাই চূড়ান্ত হবে।’