ইবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডাবল ডেকার বাসে সিনিয়র-জুনিয়র মারামারিকে কেন্দ্র করে আবারও আইসিটি ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ করতে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলা বিভাগ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠন করা ৭ সদস্যের কমিটিতে সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. সরওয়ার মুর্শেদ, অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান (ড. রহমান হাবিব), অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার দাস, অধ্যাপক গাজী মো. মাহবুব মুর্শেদ, অধ্যাপক ড. রবিউল হোসেন এবং অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান।
এতে বলা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখী ‘গোধূলী’ নামক ডাবল ডেকোর গাড়িতে বাংলা ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সকাল ১০টায় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রক্টর বরাবর বিচার চেয়ে আবেদন করে। প্রক্টর মহোদয়ের আহ্বানে তার অফিসকক্ষে উভয় বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উভয় পক্ষের উদার সম্মতিতে পারস্পরিক ক্ষমার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসিত হয়।
এতে আরও বলা হয়, সভাশেষে নিজ নিজ বিভাগে ফেরার সময় থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের নিচে শিক্ষার্থীরা পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয় বিভাগের শিক্ষক এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, ছাত্র উপদেষ্টা উক্ত সংঘর্ষে শিক্ষার্থীদের নির্বৃত্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ ঘটনায় উভয় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হন। বাংলা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ জরুরি সভায় মিলিত হয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ করতে বিভাগের সভাপতিকে আহ্বায়ক করে নিম্নোক্ত তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিভাগীয় কমিটির একাডেমিক সভায় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট-এর ভিত্তিতে প্রশাসন যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, বাংলা বিভাগ তার সঙ্গে একমত থাকবে, মর্মে সিদ্ধান্ত নেয় বাংলা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।
এর আগে, আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে দুই বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক সমঝোতা সভায় উভয় বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমঝোতার সিদ্ধান্ত হলেও, সভা শেষে প্রক্টর অফিস থেকে নিচে নামার পর আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপর হামলা চালায়।
হামলা থেকে শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে আইসিটি বিভাগের সভাপতি ও অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ, অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম এগিয়ে গেলে তাদেরও এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এছাড়া আইসিটি বিভাগের আবু সাঈদসহ ৮ শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হন। আহতদের মধ্যে আবু সাঈদকে উদ্ধার করে ইবি মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।