পদোন্নতিতে চার বছরের শর্ত, তিন মাসেই বোর্ডে বেরোবির কর্মকর্তা
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গবেষণা কর্মকর্তা ড. রোকনুজ্জামানের (রোকন) বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করা, গবেষণা কর্মকর্তা হয়েও গবেষণা না করেও বেতন তোলা, দায়িত্বে গাফিলতি ও বিশ্ববিদ্যালয় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রাজনীতিতে জড়ানো সহ নানা অভিযোগ রয়েছে আগে থেকেই। গেল বছরের মার্চে দুদকের অভিযানে এসব অভিযোগের সত্যতাও মেলে। এবার তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার থেকে প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার পদে পদোন্নতির জন্য চার বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তবে সিনিয়র রিসার্চ অফিসার পদে যোগদানের প্রায় তিন মাসের মাথায় প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার পদে পদোন্নতির জন্য বোর্ডে ডাক পেয়েছেন কর্মকর্তা ড. রোকনুজ্জামান।
জানা যায়, ড. মো. রোকনুজ্জামান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি এবং বর্তমানে ‘জিয়া পরিষদ’-এর রংপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
প্রতিবেদকের হাতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ও প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা যায়, ড. রোকনুজ্জামান ২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর সেকশন অফিসার গ্রেড-১ পদে নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি জুনিয়র রিসার্চ অফিসার পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পান। পরে ৩৫তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে তাঁর অস্থায়ী পদের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এরপর ২০১৪ সালের ২৩ মে অনুষ্ঠিত ৪০তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে স্থায়ী রিসার্চ অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ২০২৬ সালের জুনে সিনিয়র রিসার্চ অফিসার পদে যোগ দেন রোকনুজ্জামান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার থেকে প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার পদে পদোন্নতির জন্য চার বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তবে যোগদানের প্রায় তিন মাসের মাথায় গত ৪ আগস্ট তাঁকে প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার পদে পদোন্নতির জন্য ফের বোর্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফের পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে ড. রোকনুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পদোন্নতি বোর্ডের সদস্য কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, কমিটির সদস্য হিসেবে এ পর্যায়ে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, এই কমিটিতে আমি নেই। তাই আমি কিছু বলতে পারছি না। তবে তিনি ১৫-১৬ বছর ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত বলে আমাকে জানানো হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়ায় রোকনুজ্জামান ২০২৪ সালে একসঙ্গে দুটি পদোন্নতির আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে তাঁকে সিনিয়র রিসার্চ অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তার পদোন্নতির এক বছর পার হয়েছে এবং দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকায় তাঁকে ফের পদোন্নতি বোর্ড দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পদোন্নতি নীতিমালায় সিনিয়র রিসার্চ অফিসার থেকে প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে চার বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।