২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১৮

ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ, জন্মতারিখ ভুল—তবুও নিয়োগ, সরকারের গচ্চা সাড়ে ৩ কোটি

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম  © এ আই সম্পাদিত ছবি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সেকশন অফিসার পদে সাময়িকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রীকে। নিয়োগের সময় তিনি যে অভিজ্ঞতার সনদ দিয়েছিলেন সেটি সঠিক ছিল না। শুধু তাই নয়; জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী নিয়োগের সময় তার বয়স ছিল ৩২ বছর ১ মাস ১৬ দিন। অর্থাৎ সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স অতিক্রম হয়ে গিয়েছিল। তবুও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়োগ দিয়েছে। এর ফলে বেতন-ভাতা বাবদ যে টাকা দেওয়া হয়েছে সেটি অবৈধ বলে জানিয়েছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পেয়েছেন দিলীপ কুমার সরকার। নিয়োগের সময় জমা দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডিতে তার জন্ম তারিখ ছিল ১৯৬৪ সালের ৫ মে। তবে তিনি যে কলেজে চাকরির অভিজ্ঞতা দেখিয়েছেন সেই কলেজের এমপিও শীটে তার জন্ম তারিখ রয়েছে ১৯৬৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ দুই ধরনের এনআইডি জমা দিয়েছেন দিলীপ কুমার। শুধু তাই নয়; নামের বানানও ভুল ছিল তার সনদে। এ ছাড়া চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলেও পেয়েছেন চাকরি। দিলীপ কুমারকে নিয়োগের ফলে সরকারের ১ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

শুধু কুয়েট কিংবা রুয়েট নয়; নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যোগ্যতা না থাকা, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার ঘাটতি, বয়সসীমা লঙ্ঘন এবং কোথাও কোথাও প্রশ্নবিদ্ধ অভিজ্ঞতার সনদ থাকা সত্ত্বেও এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের গচ্চা গেছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৪ টাকা।

নিরীক্ষা বলছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সুস্পষ্ট শর্ত লঙ্ঘন করে এসব নিয়োগ দেওয়ার দায় এড়াতে পারে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ; বরং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং আপত্তিকৃত অর্থ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যোগ্যতা না থাকা, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার ঘাটতি, বয়সসীমা লঙ্ঘন এবং কোথাও কোথাও প্রশ্নবিদ্ধ অভিজ্ঞতার সনদ থাকা সত্ত্বেও এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের গচ্চা গেছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৪ টাকা।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২২-২৩ হতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর অডিট করেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর। অডিট প্রতিবেদনের প্রাপ্ত নথি থেকে এ অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য (পাবলিক ইউনিভার্সিটি) অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এটা আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার আগের ঘটনা। বিগত সময়ে যে অনিয়মগুলো হয়েছে সেই অনিয়মের ধারাবাহিকতায় এগুলো হয়ে থাকতে পারে। অনিয়মগুলো অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক উচ্চমান সহকারীর ১৩টি পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। উক্ত পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা হিসাবে স্নাতক পাস এবং সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা আছে। কিন্তু মো. শরিফুল আলম এবং রাশেল আহমেদ, বর্তমানে সহকারি রেজিস্ট্রার এর সংশ্লিষ্ট কাজে কোন অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও উচ্চমান সহকারী হিসেবে নিযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রদান করে বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৩ লাখ ৬২ হাজার ১৪৪ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত মোতাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার পদের জন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে ৫-৮ বছর বা কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা ইহার সমতুল্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। উক্ত পদে দিলীপ কুমার ঘোষ ৭ম গ্রেডে নিয়োগ পেয়ে যোগদান করেন। কিন্তু তিনি বেসরকারি কলেজে শিক্ষক হিসেবে ৮ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা দেখিয়েছেন, যেখানে তার নাম এবং জন্ম তারিখ ভুল ছিল।

সার্টিফিকেট এবং এনআইডি অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ১৯৬৪ সালের ৫ মে। কিন্তু বেসরকারি কলেজের এমপিও শীটে তার জন্মতারিখ ১৯৬৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভঙ্গ করে তাকে বিধি-বহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ কোটি ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬০ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাকটর পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা হিসাবে স্নাতক পাসসহ ফিজিক্যাল এডুকেশন বা সাইন্সে ডিপ্লোমাধারী হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ১ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু ফিজিক্যাল ইন্সট্রাকটর পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মো. আসাদুজ্জামান নূর তার অভিজ্ঞতার সনদ প্রদর্শন করেননি।

এসিসটেন্ট টেকনিক্যাল অফিসার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত সৈয়দ তৌহিদুল হুদা রিমল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে চাকরির অভিজ্ঞতার সনদ জমা জমা দিয়েছিলেন যা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত ৫ এর লঙ্ঘন। কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ৫ নম্বর শর্তে অভিজ্ঞতা বলতে- সরকারি প্রতিষ্ঠান বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্ব স্ব পদের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতাকে বুঝাবে বলে সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিলো। 

সহকারি পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত আবু মোহাম্মদ আরিফ বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া ৫ বছর পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও প্রশাসন সংক্রান্ত কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতার স্থলে ১ বছর ৮ মাস ১৯ দিনের অভিজ্ঞতার সনদ প্রদর্শন করেছিলেন। সহকারি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত পাপিয়া সেন বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া ১ম শ্রেণীর পদে ৩ বছরসহ কর্মকর্তা হিসেবে ৫ বছর একাডেমিক/প্রশাসন/পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজে বাস্তব অভিজ্ঞতার স্থলে ১ বছর ৫ মাস ১৪ দিনের অভিজ্ঞতার সনদ প্রদর্শন করেছিলেন।

সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ডা. আদিত্য চৌধুরী অভি ও ডা. তারিকুল ইসলাম এর ৯ম গ্রেডভুক্ত পদে উভয়েরই চাকরির অভিজ্ঞতা ছিলো ১ বছর ৫ মাস ১৪ দিন যা বিজ্ঞপ্তিতে চাহিত ডিভিএমসহ স্নাতকোত্তর পাস এবং সংশ্লিষ্ট কাজের ০৫ বছরের অভিজ্ঞতা অথবা ডিভিএম পাস এবং সংশ্লিষ্ট কাজের ৬ বছরের অভিজ্ঞতার লঙ্ঘন হওয়া সত্ত্বেও তাদের নিয়োগ প্রদান করে বেতন-ভাতা বাবদ উল্লিখিত ৬ জনকে ২১ লাখ ১২ হাজার ৭৬০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

একইভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি হিসাব রক্ষক (স্থায়ী) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত সুমাইয়া ফেরদৌস একটি বেসরকারি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে ৪ বছরের অভিজ্ঞতার সনদ প্রদান করেছেন, যা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা হিসাবে প্রার্থির সরকারি/আধা-সরকারি/স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে হিসাব নিকাশের কাজে চাহিত ৫ বছরের অভিজ্ঞতার শর্তের লঙ্ঘন। 

মেইল নার্স (স্থায়ী) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মাহমুদুল হাসান সংশ্লিষ্ট কাজে ১ বছরের অভিজ্ঞতার সনদ প্রদান করেছেন যা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা হিসাবে প্রার্থীকে ৩-৪ বছরের নার্সিং এ ডিপ্লোমাসহ এসএসসি পাশ অথবা ১ বছরের ডিপ্লোমাসহ এইচএসসি পাশ ও সংশ্লিষ্ট কাজে কমপক্ষে ৫ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) (স্থায়ী) পদে নিয়োগকৃত এ. বি. এম. ইউসুফ এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিনে বয়স ছিলো ৩২ বছর ৬ মাস ১৬ দিন, যা বয়সসীমা সংক্রান্ত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন ফাইন্যালসিয়্যাল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪ এর লঙ্ঘন এবং পরিশিষ্টে বর্ণিত নিয়োগকৃত ১২ জন ৪র্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগকৃত কর্মচারীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিনে বয়স ৩২ বছরের অধিক ছিলো যা বয়সসীমা সংক্রান্ত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন ফাইন্যালসিয়্যাল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪ এর লঙ্ঘন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রদানপূর্বক বেতনভাতা বাবদ ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪০০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপারভাইজার পদে নিয়োগকৃত রাসেল আহমেদ এর নিয়োগ সংক্রান্ত নথি ও ব্যক্তিগত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, তিনি ময়মনিসিংহ সদরের আমলীতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন যা একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকা কোন স্থায়ী চাকরি নির্দেশ করে না ও মো. সোহেল রানা ময়মনিসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার গুজিয়াম আলিম মাদ্রাসায় কম্পিউটার অপারেটর কাম হিসাবরক্ষক, পদে খন্ডকালীন কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন যা একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা আবেদনপত্রের শর্ত ১৪ এর লঙ্ঘন। এমতাবস্থায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রদানপূর্বক বেতনভাতা বাবদ ১১ লাখ ৫২ হাজার ৬৪০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত যথাক্রমে মো. জিয়াউর রহমান এবং ফাহাদ আহমদ মোমতাজী এর ব্যক্তিগত নথি যাচাইয়ে দেখা যায় যে, সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেকশন অফিসার বা সমপর্যায়ের (জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম বা তদুর্ধ্ব গ্রেডে) পদে কমপক্ষে ৫ (পাঁচ) বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু আবেদনকালে মো. জিয়াউর রহমান এর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও নিয়োগ ও পরবর্তীতে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। 

এ ছাড়া, সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেকশন অফিসার বা সমপর্যায়ের (জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম বা তদুর্ধ্ব গ্রেডে) পদে কমপক্ষে ৫ (পাঁচ) বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু আবেদনকালে জনাব ফাহাদ আহমদ মোমতাজীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেকশন অফিসার বা সমপর্যায়ের (জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম বা তদুর্ধ্ব গ্রেডে) পদে চাকরির অভিজ্ঞতা ৩ বছর ২ মাস কম থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ ও পরবর্তীতে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩২ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

আরও খবর: ইউজিসিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, কর্মীকে অব্যাহতি

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ মনিরুজ্জামান  বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাটা প্রসেসর হিসেবে চাকরিতে ১ম যোগদান করেন। চাকরিতে যোগদানকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিএসসি (সম্মান) কোর্সের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে তিনি মাস্টার্স নিয়মিত কোর্সে অধ্যয়ন ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণপূর্বক তিনি মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। বিধায় সংশ্লিষ্ট মাস্টার্স কোর্সের সনদটি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক গৃহিত হয়নি। ফলে সহকারী সেকশন অফিসার পদের নিয়োগকালীন সময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নিয়োগ উক্ত অনিয়ম সংঘঠিত হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই অনিয়ম সংক্রান্ত অডিট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাকে পুনরায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে।

একই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক নিমাই নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রীকে সহকারী রেজিস্ট্রারের শূণ্য পদের বিপরীতে সেকশন অফিসারের পদে সাময়িকভাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৭৯ সালের ৪ মার্চ। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী সেকশন অফিসার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বলতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় / ডিগ্রী প্রদানকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/সরকারী/আধা-সরকারী/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বোঝানো হয়েছে। কিন্তু উক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা, হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতার যে সনদ প্রদান করা হয়েছে তা সত্য নয় বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

এক্ষেত্রে আবেদনপত্রে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগকৃত নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রী এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিনে বয়স ছিলো ৩২ বছর ১ মাস ১৬ দিন যা বয়সসীমা সংক্রান্ত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন ফাইন্যালসিয়্যাল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ এর লঙ্ঘন। এক্ষেত্রে বয়সসীমা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করায় প্রথমেই আবেদনপত্রটি বাতিল না করে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ প্রদান করে বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয়। সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পূর্বসত্ত্বে যে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে তা সঠিক পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে অডিট অধিদপ্তর।