২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১০

ইবির ছাত্রী হলে নারী প্রভোস্ট চান আবাসিক শিক্ষার্থীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল  © টিডিসি সম্পাদিত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল গুলোতে হল প্রাধক্ষ্য বা প্রভোস্ট হিসেবে নারী শিক্ষকদের চান হলের আবাসিক ছাত্রীরা। বিগত সময়ে ছাত্রী হল গুলোতে প্রভোস্ট হিসেবে নারী শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হলেও জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে উক্ত হলগুলোতে পুরুষ শিক্ষকরা প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে বিভিন্ন অস্বস্তির কথা জানিয়ে পরবর্তীতে হলে নারী প্রভোস্ট নিয়োগের দাবি তাদের।

বর্তমানে ‌খালেদা জিয়া হলে অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন, জুলাই-৩৬ হল অধ্যাপক ড. এ কে এম শামসুল হক সিদ্দিকী এবং উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশেদুজ্জামান এবং  প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব হলে ‘হাউজ টিউটর’ পদে একাধিক নারী শিক্ষক থাকলেও প্রভোস্ট হিসেবে কোনো নারী শিক্ষক না থাকায় চাপা ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। ছাত্রীদের হল ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে প্রভোস্ট পদে নারী শিক্ষক রাখার দাবি আবাসিক শিক্ষার্থীদের।

খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থী ঐশি বলেন, মেয়েরা স্বভাবতই মেয়েদের সমস্যা মেয়েদের কাছে বলতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করে। সমস্যা যেমনই হোক তা পুরুষ প্রভোস্টের তুলনায় সহজেই মহিলা প্রভোস্টের কাছে বলা যায়। তিনি মাতৃত্বের ভূমিকায় থাকায় তুলনামূলক বেশি সহনশীল আচরণ করেন; যেকোনো ছোটখাট সমস্যায়ও যেকোন সময় তাকে ফোনে পাওয়া যায়। মেয়েদের বোঝার সক্ষমতাও তার বেশি থাকে। ছাত্রী হলের জন্য নারী প্রভোস্ট ই বেটার। 

আয়েশা সিদ্দিকা হলের বর্ষা বলেন, পুরুষ প্রভোস্টের চেয়ে নারী প্রভোস্ট মেয়েদের হলে বেশি উপযুক্ত। কারণ হল নিজের বাড়ির মতো। অনেক মেয়েরাই ধার্মিক, এমনও আছেন ছেলেদের সাথে কথা পর্যন্ত বলেন না। সেখানে পুরো একটা হলের দায়িত্বে তখন পুরুষ প্রভোস্ট থাকেন তখন অনেক মেয়ে তাদের মতামত কখনো দিতে পারেনা। সব থেকে অস্বস্তির বিষয় অনেক রাতে ফোন দেওয়া। মেয়েদের অসুস্থতা ও নানা কারণে রাত ২-৩ টার দিকেও ফোন দিতে হয়। তখন মেয়ে হয়ে এতো রাতে একটা স্যারকে ফোন দেওয়াটা অনেক অস্বস্তিকর। অনেক সময় ঘরের জামাকাপড় পড়ে স্যারের সামনে পড়ে গেলেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। 

জুলাই ৩৬ হলের শিক্ষার্থী আজমিন সামিয়া বলেন, ‘একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা অনেক সময় এমন কিছু ব্যক্তিগত, শারীরিক কিংবা নিরাপত্তাজনিত সমস্যার মুখোমুখি হই, যা পুরুষ প্রভোস্টের কাছে সরাসরি বলতে অনেকেই স্বস্তিবোধ করি না। নারী প্রভোস্ট থাকলে এসব বিষয় আরও সহজে ও নির্ভয়ে জানানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে অসুস্থতা, হয়রানি, ব্যক্তিগত সংকট কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে একজন নারী শিক্ষকের কাছে সহযোগিতা চাওয়া আমাদের জন্য বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারী প্রভোস্ট মানেই শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নয়; ছাত্রীদের জন্য তিনি একজন অভিভাবকের মতো ভূমিকা রাখতে পারেন। এতে অভিযোগ জানানো, পরামর্শ নেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হলের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের সুযোগ বাড়বে। আমরা পুরুষ শিক্ষকদের প্রতি কোনো অনাস্থা প্রকাশ করছি না; বরং ছাত্রীদের বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় প্রতিটি ছাত্রী হলে একজন নারী প্রভোস্ট থাকা উচিত বলে মনে করছি।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য যে তিনটি আবাসিক হল রয়েছে, তাতে বর্তমানে প্রভোস্ট হিসেবে পুরুষ শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ছাত্রী হল গুলোতে নারী প্রভোস্ট দেওয়ার যে দাবি শিক্ষার্থীদের, তা সম্পর্কে প্রশাসন অবগত এবং ভাইস চ্যান্সেলর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। শীঘ্রই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’