‘কৃষি খাতে শ্রমশক্তির ৪৫% থাকলেও জিডিপির বড় অংশ আসে পোশাকশিল্প থেকে’
কৃষি খাতে দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৫% নিয়োজিত থাকলেও জিডিপির একটি বড় অংশ তৈরি পোশাকশিল্প থেকে আসে বলে মন্তব্য করেছেন গ্লোবাল ইউথ পার্লামেন্টের সার্ক অঞ্চলের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ। এ সময় তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিশাল জনশক্তি এবং কর্মসংস্থানের খতিয়ান তুলে ধরে বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড, তৈরি পোশাক খাত এবং কৃষি খাতের শ্রমশক্তির বৈষম্যমূলক বাস্তবতা তুমি ধরেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা, ভবিষ্যৎ কৃষির সম্ভাবনা, উদ্ভাবন, গবেষণা ও টেকসই পদ্ধতি অনুসন্ধানের লক্ষ্য নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ইয়াস বাংলাদেশ (International Association of Students in Agricultural and Related Sciences) ইবি শাখার উদ্যোগে এবং কামারুন এগ্রো ফার্মের সহযোগিতায় আয়োজিত Future Harvest Summit–2026-এ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সর্বমোট যে শ্রমশক্তি কাজ করে, তার ৪৫% কৃষি নির্ভর। বিভিন্ন সেবা ক্ষেত্রে নির্ভরশীল ৩৭% এবং শিল্প ক্ষেত্রে মাত্র ১৭% শ্রমশক্তি কাজ করে। বছরে আমরা দেশের সর্বমোট যে জিডিপি আয় করি, তার সবচেয়ে বড় খাত হচ্ছে রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি)। কিন্তু সেখানকার এমপ্লয়মেন্টের তুলনায় কৃষির এমপ্লয়মেন্ট অনেক বেশি—শিল্পে কর্মসংস্থান মাত্র ১৭%।’
দেশের কর্মক্ষম ও তরুণ জনগোষ্ঠীর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে সাড়ে ১৭ কোটি মানুষ বসবাস করছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এর মধ্যে প্রায় ১২ কোটি মানুষ (১৪ থেকে ৬৪ বছর বয়সী) কাজ করতে সক্ষম। অন্যদিকে শিশু ও বয়স্ক মিলিয়ে নির্ভরশীল জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি। তবে এই ১২ কোটি কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে বর্তমানে মাত্র সাড়ে ৭ কোটি মানুষ মূল শ্রমশক্তিতে যুক্ত আছেন, বাকি প্রায় ৫ কোটি মানুষ কোনো কাজের সাথে যুক্ত নেই। বাংলাদেশের দেড় কোটি প্রবাসী কর্মী পৃথিবীর ৭৬টি দেশে কাজ করে দেশের অর্থনীতির দ্বিতীয় প্রধান রেমিট্যান্স জোগান দিচ্ছে।’
এ সময় ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের প্রসঙ্গ টেনে হাসান মাহমুদ বলেন, ‘২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশ তরুণ ও সক্ষম জনগোষ্ঠীর এই স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছে। পৃথিবীর সমস্ত তথ্য ও স্ট্যাটাস বলছে, কোনো দেশ যদি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কার্ভে প্রবেশ করে, তবে ওই দেশ উন্নত রাষ্ট্র হতে বাধ্য। কিন্তু বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী দেশ, যেখানে ১২ কোটি তাগড়া এনার্জি থাকার পরও মানুষ সারাক্ষণ রাজনৈতিক বা অনর্থক স্লোগানে ব্যস্ত থাকে। বিপুল জনশক্তি থাকার পরও কাজের সঠিক সুযোগ না তৈরি হওয়ায় আমরা দেশের স্বর্ণালী অর্থনৈতিক ঐতিহ্য থেকে দূরে সরে গেছি।’