২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৫৩

অজ্ঞাত নাম্বার থেকে গালিগালাজ ও হুমকি, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম  © ফাইল ফটো

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যার শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই অজ্ঞাত নম্বরের ফোনে গালিগালাজ ও হুমকির মুখে পড়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের পরিবার। অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পর এমন ফোন পাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তার পরিবার।

জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রামীনফোন সিম কোম্পানির একটি নাম্বার থেকে কল দেওয়া হয় অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়াকে। কল রিসিভ করার পর পরিচয় জানতে চায় অজ্ঞাত নাম্বার থেকে। পরিচয় দেয়ার পর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। কল কেটে দিলে বারবার কল দিতে থাকে। পরে তিনি নাম্বারটি ব্লক করে দেন। পরে এয়ারটেল (সার্কেল) কোম্পানির আরেকটি নাম্বার থেকে বারবার কল দিতে থাকে।

নাম্বার দুটিতে প্রতিবেদক কল দিলে দুইটি নাম্বার দুটি বন্ধ দেখায়। এদিকে ট্রু কলারে সার্চ দিয়ে রাসেল স্টোর ও মোহাম্মদ আলি নামে সেভ করা দেখা যায়।

অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, আমার ছেলে মারা গিয়েছে। তাকে আইফোনের জন্যই মারা হয়েছে নাকি অন্য কোনো কারণ আছে, সেটা আমরা জানি না। আমাদেরও শঙ্কা কাজ করে। মাঝেমধ্যে কিছু নাম্বার থেকে কল আসে, কিন্তু পরিচয় দেয় না। সেদিন কল দিয়ে খুব খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেকে মেরে ফেলার পরে আসামিরা আমার সঙ্গে এসে আমার ছেলেকে খুঁজেছে। এখন তাদের লিডাররাও যে আমার বাসায় এসে আমার সঙ্গে কোলাকুলি করছে না, এর নিশ্চয়তা কী! পুলিশ তদন্তের স্বার্থে কিছু বলছে না। কিন্তু এর একটা বিহিত না হলে কিভাবে হবে। আমরা অনিরাপত্তার শঙ্কায় আছি।

বিষয়টি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সাধারণ ডায়েরি করবো ও ডিবিকে বিষয়টি জানাবো।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে অপ্রতীম নিখোঁজ হয়। অপ্রতীমকে উদ্ধারে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানোর পর সানন্দার একটি পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ‘কেবিজি’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তারা হলো—মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)।