২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৮

সার্টিফিকেট সংশোধনসহ মূল সনদ উত্তোলনে শিক্ষার্থীদের সুখবর দিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো  © টিডিসি সম্পাদিত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট উত্তোলন, নাম সংশোধন, কলেজ ট্রান্সফার ও টিসি নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হচ্ছে। এসব সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস গাজীপুরে আসার প্রয়োজন হবে না। অনলাইনেই এসব কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

উপাচার্য বলেন, ‘আমরা আসার আগে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে প্রফেশনাল ও ফাইনাল সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসে আসতে হতো। আবেদন করতে হতো। দালাল ধরতে হতো। বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে ঘুরতে হতো। আমরা আসার পর এসব বন্ধ করে পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটালে রূপান্তর করেছি। এখন শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করবেন। সোনালী ব্যাংকে টাকা জমা দেবেন। এরপর অনলাইনেই আবেদনের স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ফাইনাল সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে।

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ডিস্ট্রিবিউশনের ক্ষেত্রে প্রভিশনাল সার্টিফিকেটগুলো সংশ্লিষ্ট কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকেই শিক্ষার্থীরা তা সংগ্রহ করছেন। আর ফাইনাল সার্টিফিকেট শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে নিচ্ছেন। তবে এখন আর আগের মতো ঘুরাঘুরি করতে হচ্ছে না। সার্টিফিকেট প্রস্তুত হয়েছে কি না, তা অনলাইনে দেখে শিক্ষার্থীরা এসে কাগজ জমা দিয়ে সংগ্রহ করছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তাদের আঞ্চলিক কেন্দ্র ছিল ছয়টি। দায়িত্ব নেওয়ার পর আরও ছয়টি বাড়িয়ে বর্তমানে ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল টার্গেট হলো প্রতি দুই জেলায় একটা করে আঞ্চলিক কেন্দ্র করে ৩২টা আঞ্চলিক কেন্দ্র করা। শুধু আঞ্চলিক কেন্দ্র না, আটটা ডিভিশনে যদি আমরা আটটা ক্যাম্পাস করতে পারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য, সেই ক্যাম্পাসভিত্তিক আমাদের অনেকগুলো কোর্স ক্যাম্পাসভিত্তিক পরিচালিত হবে। কলেজগুলোর মতো ক্যাম্পাস তৈরি হবে। যে আঞ্চলিক ক্যাম্পাস হবে, সেখান থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আঞ্চলিক ক্যাম্পাসগুলোতে প্রফেশনাল কোর্স পরিচালিত হবে।’

উপাচার্য বলেন, আঞ্চলিক ক্যাম্পাসগুলো প্রতিষ্ঠা করা হলে বর্তমানে গাজীপুরে থাকা বিভিন্ন সুবিধা ও ফ্যাসিলিটি ওই আঞ্চলিক ক্যাম্পাসগুলোতেও নিয়ে যাওয়া হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী এক বছরের মধ্যে পেপারলেস করার চেষ্টা চলছে। দেখি যে আমরা একটু পেপারলেস করতে পারি কি না। অলরেডি বেশ কিছু জায়গাতে আমরা পেপারলেস হয়ে গেছি। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ নথি ই-নথিতে চলে গেছে। বাকি নথিগুলোও ই-নথির আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

উপাচার্য বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ইতোমধ্যে ক্যাশলেস ক্যাম্পাস। সেখানে কোনো ক্যাশ হ্যান্ডেল করা হয় না। আরও ছোটখাটো দুই-একটি জায়গা রয়েছে। সেগুলোতেও শতভাগ ক্যাশলেস ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সব লেনদেনই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আগের পরিস্থিতির তুলনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এখন শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট তোলার জন্য অথবা বিভিন্ন নাম কারেকশনের জন্য যেভাবে আসতেছে, আগে যে অবস্থা ছিল, এই অবস্থা থেকে কিন্তু অনেক উত্তরণ হয়েছে। এখন নাম সংশোধন, কলেজ ট্রান্সফার, টিসি নেওয়া কিংবা সার্টিফিকেট উত্তোলনের মতো কাজ অনলাইনেই শেষ করা যাচ্ছে। এসব কাজের জন্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে হচ্ছে না। কিন্তু ওই যে একটা মাইন্ডসেট আমাকে একটু যেতে হবে, একটু কথা বলতে হবে, কোনো একজন অফিসার সেটা আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি।’

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানুষ যত বেশি আসবে এবং পারসন টু পারসন যত বেশি যোগাযোগ হবে, সেখানে বিভিন্ন ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ থেকে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই জায়গাটিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে সার্টিফিকেট উত্তোলন, নাম সংশোধন কিংবা কলেজে টিসি নেওয়ার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস গাজীপুরে আসতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন উপাচার্য।

তিনি বলেন, প্রফেশনাল হোক বা ফাইনাল কোনো ধরনের সার্টিফিকেটের জন্যই শিক্ষার্থীদের যেন ক্যাম্পাসে আসতে না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। এক কথায়, ছাত্র এবং শিক্ষকদের, সারা বাংলাদেশের ছাত্র এবং শিক্ষকদেরকে শুধু মডারেশনের পার্টটা ছাড়া, প্রশ্ন করা ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গাজীপুরে যাতে আসতে না হয়, সেদিকে আমরা হাঁটছি।’