১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত খুবির ৬ শিক্ষার্থী
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সহকারী জজ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন ডিসিপ্লিনের ছয় শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ শেষে তাঁরা এ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়।
সুপারিশপ্রাপ্ত ছয় শিক্ষার্থী হলেন-খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ ব্যাচের মাহবুবা সুলতানা, ১৯ ব্যাচের হাফসা বিনতে আইয়ুব, সজল আহমেদ, কামরুজ্জামান বাদশা, মো. নাসিম বিল্লাহ এবং ২০ ব্যাচের নাজমুল ইসলাম সিয়াম।
মেধাতালিকায় মাহবুবা সুলতানা, হাফসা বিনতে আইয়ুব সপ্তম, সজল আহমেদ অষ্টম, কামরুজ্জামান বাদশা ৫৭তম, মো. নাসিম বিল্লাহ ৬৫তম এবং নাজমুল ইসলাম সিয়াম ১০২তম স্থান অর্জন করেছেন।
এ বিষয়ে আইন ডিসিপ্লিনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক পুনাম চক্রবর্তী বলেন, ‘১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় আমাদের ছয়জন শিক্ষার্থী বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় আমরা গর্বিত। মাত্র নয় বছরের পথচলায় আমাদের শিক্ষার্থীরা আইনজীবী, শিক্ষক, গবেষক, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নতুন এ অর্জন যুক্ত হলো। আমরা আশা করি, তাঁরা সততা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবেন।’
সুপারিশপ্রাপ্ত নাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘সর্বপ্রথম সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ শুকরিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর আমরা ছিলাম তৃতীয় ব্যাচ। আমাদের সিনিয়র ব্যাচ যখন জুডিশিয়ারির পরীক্ষা দিতেন, আমরা খুবই আবেগ নিয়ে তাঁদের সাফল্যের খবর শোনার জন্য অপেক্ষা করতাম। অনেক পরিশ্রমের পরও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সাফল্য ধরা দিচ্ছিল না। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, ১৮তম বিজেএসে আমাদের ছয়জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে এই দিনে নিয়ে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের শিক্ষক, সিনিয়র, জুনিয়র, আমার খাজা হলের সকল মানুষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি মানুষের। অনেক অনেক ধন্যবাদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। সকলের কাছে দোয়া চাই, যেন বিচারক হিসেবে ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারি।’
সজল আহমেদ বলেন, ‘আইন ডিসিপ্লিন তথা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে দোয়া চাই, যাতে সারাজীবন ন্যায়ের পথে থাকতে পারি এবং মানুষের জন্য সবসময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারি।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে অধস্তন আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য বিজেএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ধাপের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয়।