২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২৪

আজমল হত্যায় সুষ্ঠু তদন্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি খুবির শিক্ষার্থীদের

আজমল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি।  © টিডিসি ছবি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলিতে আজমল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঘটনার সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী জড়িত থাকলে তার পরিচয়, পদমর্যাদা বা ব্যাচ বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

সমাবেশে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, ‘এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যে কোনো সিনিয়র, জুনিয়র বা ব্যাচমেট যুক্ত থাকুক না কেন, তাদের কঠোর ও সর্বোচ্চ শাস্তি আমরা কামনা করছি।’ একই সঙ্গে ঘটনাটি যেন কোনোভাবেই ধামাচাপা না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী তানভির বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবসময় ন্যায়বিচারের পক্ষে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনড় থাকবেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি খুলনার অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও ন্যায়বিচারের দাবিতে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সংস্কৃতি কখনো অন্যায়, মব জাস্টিস বা হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে না। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তার দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্তায় না বলেও তারা উল্লেখ করেন।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নির্ঝর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে-এমন আলোচনা তারা দেখতে পেয়েছেন। তদন্তের নামে কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূতভাবে একজন মানুষকে হত্যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। একজন মানুষের বাবা-মায়ের কথা বিবেচনা করলেও এ ধরনের ঘটনার বিচার না চেয়ে ঘরে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ প্রশাসন বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রত্যেক সদস্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, যে ভবনে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা বসবাস করতেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন। তাই তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন-এমন ব্যক্তিরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত দ্রুত শেষ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া যেন অযথা দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি এবং কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হন-এসব দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি ভবনে আজমল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাকে চুরির সন্দেহে মারধরের পর ভবনের চতুর্থ তলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে-এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম এসেছে।