সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে কুবি অধ্যাপকের উদ্বেগ
কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও কিশোর গ্যাংয়ের দাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. হুসনে জাহান। নিজের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় থাকার কথা জানিয়ে কুমিল্লার মানুষের নিরাপত্তায় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব উদ্বেগের কথা জানান তিনি।
সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার বিষয়টি তদন্তে এসেছে।
অধ্যাপক ড. হুসনে জাহান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘আমার ছেলেটা কুমিল্লা মডার্ন স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করার পর ওর জন্ম। প্রায় খেলতে যায় কুমিল্লা ঈদগাহ মাঠে। প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ আমার ছেলেটাকে তুমি হেফাজত করো। আমি আমার ছেলেটাকে পাহারা দিয়ে রাখতে পারি না। আমার পক্ষে সম্ভবও না। একটা মানুষকে পাহারা দিয়ে রাখা যায় না।’
তিনি আরও লিখেন, ‘এখন প্রশ্ন আসে আইনশৃঙ্খলার। কুমিল্লার আইন-শৃঙ্খলার অবনতি চরম আকারে রূপ নিয়েছে। কিশোর গ্যাং এর দাপট বেড়েছে বহুগুণ। ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লাতে প্রবেশের দুইটা রাস্তায় রাত ৯ টার পরে ঢুকতে এখন ভয় লাগে। দিনের বেলা কোন চিপা গলিতে যাই না সহজে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়ি খুব কম ব্যবহার করি ভয়ে। তেমন কোন গয়না পরি না, তেমন কোন সাজগোজ করি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত একটা জায়গার আমি শিক্ষক। এজন্যই আমার প্রতিনিয়ত ভয় আমার সন্তানদের নিয়ে।’
রাষ্ট্রের কাছে অনুযোগের সুরে তিনি লিখেন, ‘আমি কি পাপ করেছি শিক্ষক হয়ে? আমি কেন এত ভয়ে থাকবো? আমি কি রাষ্ট্রকে কন্ট্রিবিউট করি না? নাকি শিক্ষক হওয়াটাই আমার পাপ?’
অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সমবেদনা জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘নাহিদা ম্যাডাম চমৎকার একজন মানুষ। মানুষটার বাহিরের রুপ দেখে বুঝার উপায় নেই, ভেতরটা কত নরম। অনেকটা মাটির মতো, সবকিছু বুকে ধারণ করে। যখন থেকে জানলাম ম্যাডামের ছেলেটা হারিয়ে গেছে, তখন থেকেই দোয়া করছিলাম, আল্লাহ ছেলেটাকে জীবিত ফেরত দিক। যতগুলো টাকা লাগবে লাগুক। তবু ছেলেটা যেন জীবিত ফিরে আসে। আমার ইচ্ছা পূরণ হয়নি। আল্লাহ তাঁর বান্দা কে দিয়েছেন অল্প সময়ের জন্য। আবার নিয়েও গিয়েছেন। আমাদের সব সময় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
সবশেষে কুমিল্লার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়ে তিনি লিখেন, ‘এই মৃত্যু আমাদের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। আইনশৃঙ্খলার এই যে চরণ অবনতি, তা থেকে আমাদের সন্তানদের, কুমিল্লা বাসী কে রক্ষা করার জন্য, প্রশাসন কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তার জন্য প্রশাসনের নিকট জবাব চাই। এই জবাব শুধু আমার একার না, কুমিল্লার সব জনগণের।’